স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় মাটি বহনকারী রোড পারমিটবিহীন ট্রাক্টরগাড়ির চাপায় পিষ্ট হয়ে হাফিজুর রহমান (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সে কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের নিজ চাউরা উত্তর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আবুল কাশেমের একমাত্র পুত্র এবং নিজ চাউরা কিণ্ডারগার্টেন হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে সদর ইউনিয়নের বীরদল হাওড় সানন্দপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, হাফিজুর রহমান তার মা ও দুই বোনকে নিয়ে মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যার দিকে মামার বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের সড়কে আসার সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মাটি বহনকারী ট্রাক্টর তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে এবং ট্রাক্টরটি তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ঘাতক ট্রাক্টরের চালক পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা আরও দুটি ট্রাক্টরের চালককে আটক করে বীরদল লক্ষীপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে নিহত শিক্ষার্থীর সুরতহাল সম্পন্ন করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য তাদের হেফাজতে নেয়।
হাফিজুর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তারা এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বীরদল এলাকায় একটি অসাধু চক্র প্রতিদিন অসংখ্য ফিল্ডার ও এক্সকাভেটর দিয়ে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ট্রাকযোগে বিক্রি করছে। এতে একদিকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে ধুলাবালিতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাট দ্রুত ভেঙে পড়ছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।