Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারের তাওহীদার মনের দু:খ কী অজানাই থাকবে

admin

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ০৫:৪০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ | ০৫:৪০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বিয়ানীবাজারের তাওহীদার মনের দু:খ কী অজানাই থাকবে

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
এসএসসি পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। ব্যবহারিক পরীক্ষা সামনে। জীবন-যৌবনের এমন ফুলেল সিঁড়িতে পদার্পনের আগে কেন আত্মাহুতির পথ বেছে নিল ষোড়শী তাওহীদা জান্নাত। কী তার মনের কষ্ট, যে যাতনায় গলায় স্বর্ণের মালার বদলে দিতে হলো পরপারের দড়ি। ঘটনার ৪ দিন পেরিয়েছে, এখনো জানা যায়নি তার মনের দু:খ। রহস্য ঘেরা তাওহীদার আত্মাহুতির কারণ তবে কী অজানাই থাকবে না-কি প্রতিবাদের সবচেয়ে কঠিন ভাষা হিসাবে বিবেচিত হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকদিন।

বিয়ানীবাজারের মাথিউরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল তাওহীদা। সে পশ্চিমপার এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে। ঈদের পরদিন শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তদন্তের স্বার্থে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাওহীদার ব্যবহৃত ওই ফোনে সিম না থাকলেও হোয়াটসআপ ব্যবহার করতো সে। সূত্র জানায়, ওই ফোন ব্যবহার করে কার সাথে তাওহীদা শেষ কথা বলেছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। কিংবা কার সাথে তার বেশী যোগাযোগ হয়েছে তাও তদন্ত করা হচ্ছে। থানা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তাওহীদার ফোন যোগাযোগের রহস্য অনেকটা জানতে পেরেছেন বলে একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়। তাছাড়া নিহতের পিতা পুলিশের কাছে সন্দেহভাজন একজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাকেও নজরদারীর মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Manual7 Ad Code

মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ দেননি ইকবাল হোসেন। তিনি কৃষিকাজ করেন। ঈদের সময় অন্যের টাকায় গরু ব্যবসায় জড়িত পড়েন। তিনি জানান, পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে। এক মেয়ের কারনে অন্য সন্তানদের বিপদে ফেলতে চাননা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শুক্রবার রাতে তার ঘর থেকে কাউকে বেরিয়ে যেতে দেখেননি।

এদিকে তাওহীদার আত্মহনন ঘটনা ধামাচাপা দিতে সমাজপতিরা দফায়-দফায় বৈঠক করছেন। সংগ্রহ হচ্ছে বড় অংকের তহবিল। তবে স্থানীয়দের দাবী, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন হোক। আত্মহত্যার প্ররোচনায় জড়িতরা শাস্তি যাতে শাস্তি পায়।

Manual1 Ad Code

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক জানান, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। অবশ্যই এই আত্মহননের কারণ উদঘাটিত হবে।

Manual8 Ad Code

সুজন সভাপতি ও কলামিষ্ট এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন বলেন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হলে আত্মবিশ্বাস নেতিবাচক হয়ে যায়। এ কারণে বেঁচে থাকাকে আর অর্থবহ মনে হয় না। তার চেয়ে মৃত্যু অনেক সহজ ও আকাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠে। আত্মহত্যাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে একটা বড় অংশ আবার হতাশায় আক্রান্ত থাকে। তাই নেতিবাচক চিন্তার প্রাধান্য থেকে মুক্তি পায় না তারা। এ জন্য নেতিবাচক আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

Manual5 Ad Code

শেয়ার করুন