Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেট-৪ আসনে ‘অপরাজেয়’ আরিফ -জয়নালের লড়াই

admin

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৪০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৪০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেট-৪ আসনে ‘অপরাজেয়’ আরিফ -জয়নালের লড়াই

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট- জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় ২৩২ সিলেট- ৪ আসন। সীমান্তের জনপদ প্রাকৃতিক সম্পদের ভরপুর এই আসনে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন দুই বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। সমানতালে চলছে  দুজনের প্রচার-প্রচারণা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নির্বাচনে একাধিকবার অংশ নিয়ে একবারও হারতে হয়নি তাদের। বৈরী পরিবেশেও ভোট যুদ্ধে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছেন তারা।

ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াতের এই দুই অপরাজিত রাজনীতিবিদ হচ্ছেন হচ্ছেন বিএনপি ঐক্যজোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী।

অপরজন হচ্ছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন।

Manual6 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

জামাত প্রার্থী জয়নাল আবেদীনকে এক বছর পূর্বেই এই আসনে তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করতে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে তিনি জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় সামাজিক রাজনৈতিক বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শুরু করেন। ভোটের মাঠে বেশ জনপ্রিয় জয়নাল আবেদীন এই অঞ্চলের মানুষের সাথে তার রয়েছে বেশে সুসম্পর্ক। বিশেষ করে প্রবাসীদের সাথে রয়েছে এক মিলবন্ধন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রত্যেকেই উপজেলায় প্রত্যেকটি অঞ্চলেরে বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা, মন্দিরে, গিয়ে গণসংযোগ সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। অবহেলিত এই জনপদের রাস্তাঘাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতিকরনসহ, দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের বার্তা। পাথর কোয়ারিসহ যুবসমাজের বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন  উদ্যোগের কথাও তিনি জানাচ্ছেন। তার নির্বাচনী সভাসমাবেশ দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায়,বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য  কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রার্থী।

Manual3 Ad Code

অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গত নভেম্বর মাস থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেট ৪ আসনে প্রচারণা শুরু করেন। বিএনপি’র ৩১ তফা বাস্তবায়নে  অল্প সময়েই এই প্রার্থী ৩ টি উপজেলার বিভিন্ন  মসজিদ মাদ্রাসা, মন্দির বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি কর্তৃক ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিএনপি’র কর্মপরিকল্পনা প্রচার করেন।,  প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই তিন উপজেলার বিএনপি ও জোট সঙ্গী নেতার নিয়ে বৈঠক করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের বার্তা, সিলেট চার আসনকে দেশের একটি উন্নয়নশীল উন্নত পর্যটন এলাকায় রূপান্তর ও পাথর শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে নানান পরিকল্পনার বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন এই প্রার্থী। এছাড়াও এই আসনের প্রায়াত নেতা সাবেক এমপি মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে তিনি সকলের সহযোগিতা চাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত সিলেট ৪ আসনকে পূর্ণ উদ্ধার করতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে  মাঠে মরিয়া হয়ে কাজ করছে বিএনপি ঐক্য জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম,সহ শরিক দলের নেতাকর্মীরা।, প্রচারণায় পিছিয়ে নেই ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে জয়নাল আবেদীনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে জোটের সমমনা খেলাফত মজলিস’সহ ইসলামি দলগুলো।

 

জৈন্তাপুরের জসিম, আমির,রিয়াজ উদ্দিন  সহ একাধিক ভোটারদের সাথে আলাপ হলে তারা জানায় স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে জয়নাল আবেদীকে তারা ভোট দিয়ে সংসদে একজন জৈন্তাপুরী হিসেবে কথা বলার সুযোগ দিতে চান।, জয়নাল আবেদীন এলাকার সন্তান, দীর্ঘদিন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন আমরা সবসময় পাশে পেয়েছি,  তিনি নির্বাচীত হলে এলাকায় উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁকে সবসময় সুখেদুখে  পাশে পাওয়া যাবে।

 

গোয়াইনঘাটের আমির, লিটন,সুরুজ মিয়ার কাছে ভোট কাকে দিবেন জানতে চাইলে তারা জানায় গোয়াইনঘাট উপজেলা গত ২২শের বন্যায় ব্রিজ কালভার্ড রাস্তাঘাটে যে অবস্থা হয়েছে, এতে এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা মানবতার জীবন পার করছি।, আমরা এবারে পরিবর্তন চাই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী,সিলেট সিটিতে অনেক উন্নয়ন করেছেন, দেশ জোড়ে তার সুনাম রয়েছে, ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাঁকে সংসদে পাঠাতে চাই, তিনি নির্বাচীত হলে আমাদের দুঃখ, দুর্দশা লাগব হবে আশাবাদী।

 

কোম্পানীগঞ্জের তরুণ ভোটার মাহি,শাহিন,ও মেহরাব জানায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা অবহেলিত অঞ্চল পাথর কোয়ারি নির্ভরশীল আমাদের এলাকা আমাদের শ্রমিক ও উন্নয়ন কাজে যিনি কাজ করবেন তাকে আমরা আগামী নির্বাচনে বেঁচে নিব।

স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই আসনে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর ও হিন্দু ভোটার যাদের ভোট দিকে পড়বে, তিনিই আগামীর সিলেট ৪ আসনের এমপি মনোনীত হবেন।

 

এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে  মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান( ডালিম) (জাতীয় পার্টি) মাওলানা সাঈদ আহমদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) জহিরুল ইসলাম(গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)।

 

এই আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২৫ ইউনিয়নে ১৭২ টি কেন্দ্রে মোট ভোটার মোট ভোটার ৫০৮,১১৮ এর মধ্যে  মোট পুরুষ ভোটার ২৬২,৭৪৫, আর মোট মহিলা ভোটার ২৪৫,৩৭২, মোট হিজরা ভোটার ১।,  তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন।

উল্লেখ্য: ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী একটি প্রভাবশালী নাম। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের সিসিক নির্বাচনে আওয়ামিলীগের প্রভাবশালী প্রার্থী সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করেন। এরপর ২০১৮ সালে আবারও কামরান, দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালে তৃতীয়বার মেয়র পদে লড়তে গিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নির্বাচন বর্জন করেন তিনি।

 

Manual7 Ad Code

অপরদিকে, জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠের এক জনপ্রিয় নাম। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামিলীগের তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এরপর ২০১৪ সালে আবারও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি কামাল আহমদের সাথে লড়াই করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

 

শেয়ার করুন