স্টাফ রিপোর্টার:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিয়ানীবাজারে ছাত্ররাজনীতির সার্বিক চিত্র বদলেছে। উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক তৎপরতা ও শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়ে যেমন আলোচনা রয়েছে, আবার ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের কার্যক্রম ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে আসার পর রাজনীতিতে এক নতুন মেরূকরণের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্ভাব্য প্রভাব ও ভিত্তি সংহত করার প্রচেষ্টাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে বিয়ানীবাজারে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে নিজেদের আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার পথ বেছে নিয়েছে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিয়ানীবাজার পৌরশহরে ইসলামী ছাত্র শিবির বেশ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও একাধিক কর্মসূচি পালন করে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। ছাত্র রাজনীতির বড় পাদপীঠ বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সহাবস্থান করছে। একে অপরকে ধন্যবাদ-অভিনন্দন জানাচ্ছে।
জানা যায়, গত এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে বিয়ানীবাজারে সবচেয়ে বেশী সক্রিয় হয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। উভয় ছাত্র সংগঠনই নতুন শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে এবার ছাত্রদল-শিবির কোন শো-ডাউন করেনি। তারা সংবর্ধণা অনুষ্টান করে উচ্চ মাধ্যমিকে পদার্পণকারীদের নিজ দলে আসার কৌশলী আহবান জানিয়েছে। কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমদ জানান, নতুন ছাত্রদের বরণ করতে আমরা এবার কোন শোডাউন করিনি। আমরা ফুল দিয়ে তাদের আহবান জানিয়েছি। এদিকে উপজেলা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, নৈতিক এবং একাডেমিক শিক্ষার বিষয়টি সামনে রেখে আমরা নতুন ছাত্রদের দলে ভেড়ানোর আহবান জানাচ্ছি।
একাধিক সূত্রের ভাষ্য, বিয়ানীবাজারের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কৌশলে রাজনীতি করছে ছাত্রশিবির। নিজস্ব কাঠামোয় নিয়মিত সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অনলাইন প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ মনে করেন, কৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে সংগঠনটি রাজনীতি করছে। অন্যদিকে, ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে কাজ করার পাশাপাশি দু-একজনের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ভালো কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছে।
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাহিম হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব ও তারেক রহমানের সবার আগে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমে উজ্জীবিত হয়ে এবার দলে দলে শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলে যোগদান করছে। আমরাও বদলে যাওয়া ছাত্রদলের নানা কর্মকান্ডে তাদের স্বাগত জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের কাজ হলো নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া, নিজেরা উপকৃত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদেরও উপকৃত করা।
বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো: আব্দুল মুমিন বলেন, আমরা ছাত্রদের কাছে যাচ্ছি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের ডাক নিয়ে। সেই ডাকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রশিবিরকে বেছে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী-বিচ্ছিন্ন রাজনীতি কিংবা সন্ত্রাসের রাজনীতি, এই দুটিকেই আমরা সবসময় ‘না’ বলেছি এবং সবসময় এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান বজায় রাখবো।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
সহ সম্পাদকঃ মোঃ সুমন আহমদ
সার্বিক ব্যবস্থাপকঃ মোঃ আলী হোসেন
স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ আবুল হাসান আহমদ,
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার
সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার, মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: beanibazareralo@gmail.com
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।