শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারে পূর্ববিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং তার বাসায় রিভলবার লুকিয়ে রেখে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর চেষ্টার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র ও অপহরণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম তুহিন আহমদ (৪৭)। এ ঘটনায় পলাতক অপর সহযোগীরা হলেন—ফাহিম আহমদ (২২) ও বাবুল মিয়া (২৬)। এছাড়া পুরো ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগে উঠে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের (মাসুদ কমিশনার) নেতৃত্বে তুহিন, ফাহিম, বাবুলসহ ৫-৬ জনের একটি দল মাদক সেবনের অজুহাতে শহরের বড় কাঁপন আবাসিক এলাকার শফিকুল ইসলাম লিটনের বাসায় চড়াও হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক ধরে মাসুদের বাসার একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেদম মারধর ও প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক হাতে একটি রিভলবার ধরিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, (গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে) মাসুদের নির্দেশে অভিযুক্ত তুহিন ও অন্যরা অপহৃত লিটনকে তার ভাড়া বাসায় ফিরিয়ে দেন। এরপর তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে একটি রিভলবার ও চারটি গুলি লিটনের বাসার সোফার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং মুহূর্তেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় সংবাদদাতার সহযোগী পরিচয়ে তুহিন, ফাহিম ও বাবুল পুলিশের সঙ্গে ওই বাসায় প্রবেশ করেন। তবে তল্লাশির সময় তাদের অতি উৎসাহী আচরণ এবং পুলিশকে সুনির্দিষ্ট স্থান থেকে অস্ত্র বের করে দেওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এ সময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফাহিম ও বাবুল পালিয়ে যান। পরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বাসার ভেতর থেকে আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম লিটনকে উদ্ধার করে এবং সোফার নিচ থেকে অস্ত্রটি জব্দ করে।
মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক তুহিন আহমদকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার সদর থানায় অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এবং অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে দণ্ডবিধি অনুযায়ী পৃথক দুটি মামলা (মামলা নম্বর: ৫ ও ৬, নভেম্বর ২০২৬) রুজু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার মূল হোতাসহ পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
সহ সম্পাদকঃ মোঃ সুমন আহমদ
সার্বিক ব্যবস্থাপকঃ মোঃ আলী হোসেন
স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ আবুল হাসান আহমদ,
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার
সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার, মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: beanibazareralo@gmail.com
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।