স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট নগরজুড়ে এখন বিরাজ করছে ছিনতাই আতঙ্ক। হঠাৎ করে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে ছিনতাইকারীরা। দিনদুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা ছিনতাই করছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ছিনতাইয়ের দৃশ্য ও ছিনতাইকারীদের চেহারা স্পষ্ট ধরা পড়লেও পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না জড়িতদের।
এমতাবস্থায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে সিলেটের দুই মন্ত্রী পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগির তারা ধরা পড়বে। এছাড়া নগরবাসীর ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরীর হাউজিং এস্টেটে সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ৬ ছিনতাইকারী। ছিনতাইয়ের এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হলে নগরজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করা গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এই দায়ভার নিয়ে প্রত্যাহার হন এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোবাশ্বির আলী। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গত বৃহস্পতিবার দিনদুপুরে নগরীর সাগরদিঘীরপাড় এলাকায় আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে দুই ছিনতাইকারী এসে এক তরুণীকে গতিরোধ করে সাথে থাকা ব্যাগ ও পরণের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তরুণী ব্যাগ ও স্বর্ণালংকার দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধারালো অস্ত্রের উল্টো দিক দিয়ে কয়েকবার আঘাত করা হয়।
পুলিশের দাবি, ছিনতাইয়ের চেষ্টা হলেও ওই তরুণীর কাছ থেকে কিছু নিয়ে যেতে পারেনি ছিনতাইকারীরা।
আলোচিত এ দুই ঘটনা ছাড়াও সিলেট নগরীতে প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ফেসবুকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ভাইরাল না হলে সেগুলো থেকে যাচ্ছে আড়ালে। হঠাৎ করে নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিঘ্ন হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।
এদিকে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সিলেটের দুইমন্ত্রী। শনিবার সিলেট সফরে এসে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যারা অবনতি ঘটাচ্ছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সিলেটে এসব কর্মকান্ড বরদাশত করা হবে না। আমরা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে।’
এর আগে গত শুক্রবার শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে (এসএমপি) কঠোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট নগরীতে বেড়েছে পুলিশের তল্লাশি। গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে পুলিশ মোটরসাইকেল ও গাড়ি তল্লাশি করছে। বিশেষ অভিযানে মাঝে মধ্যে ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা ধরা পড়ছে। কিন্তু এরপরও থামছে না অপরাধ কর্মকান্ড।
এ প্রসঙ্গে এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, হাউজিং এস্টেট ও সাগরদিঘীরপাড়ের ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা পেশাদার অপরাধী। এদের বিরুদ্ধে আগেও চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে। শিগগির এরা ধরা পড়বে।
ঈদকে সামনে রেখে নগরবাসীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবছরই ঈদকে সামনে রেখে চুরি-ছিনতাই বাড়ে। তুলনামূলকভাবে এবার এরকম অপরাধকর্মকান্ড কম হচ্ছে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় নগরীতে পুলিশের ৬০টি মোবাইল টিম ও ৬টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করছে। ১২টি অস্থায়ী ও ৩টি স্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চলছে। বিপণীবিতানগুলোতে পোশাকধারীদের পাশাপাশি সাদাপোষাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। সিনিয়র অফিসাররা ২৪ ঘন্টা তদারকি করছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ছিনতাইকারীসহ অন্তত ১০০ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাতে ব্যস্ততম এলাকায় ড্রোন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নগরজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এক-দুই মাসের মধ্যে সিলেটে ছিনতাইকারী ও কিশোরগ্যাং থাকবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
সহ সম্পাদকঃ মোঃ সুমন আহমদ
সার্বিক ব্যবস্থাপকঃ মোঃ আলী হোসেন
স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ আবুল হাসান আহমদ,
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার
সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার, মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: beanibazareralo@gmail.com
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।