স্টাফ রিপোর্টার:
নাজমা ভিলা। সিলেটের আর কয়েকটা আবাসিক ভবনের মতোই একটা ভবন। খুব একটা চাকচিক্য নেই। তিনতলা ভবনটি অনেক বড়। প্রচুর ফ্ল্যাট। ভাড়াটিয়ায় গিজ গিজ। সিলেট নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র এখন এই নাজমা ভিলা।
কারণ, এই বাসার দোতলা থেকে রবিবার রাতে কিশোর গ্যাংয়ের অন্তত ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই অপহরণ করে লোকজনের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন কেড়েতো নিতই, এমনকি মুক্তিপণ আদায় করে তারপর ছাড়তো। তবে ছাড়ার আগে আরও জঘন্য কাজ করতো। ভিকটিমকে নগ্ন করে তার ফটো ও ভিডিও সংগ্রহে রেখে হুমকি দিতো, পুলিশে গেলে বা মুখ খোলইে সেগুলো ভাইরাল করা হবে।
রবিবার সন্ধ্যায় তারা তেমন কাজই করে নগরীর গোয়াবাড়ী এলাকার সুহেল সরকারের সাথে (২২)। সুহেল মুক্তি পাওয়ার পর সাহসী হয়ে ছুটে যান কোতোয়ালী থানায়। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে জড়িত এই চক্রটির ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর থেকেই আলোচনা এই নাজমা ভিলা। সোমবার সন্ধ্যায় সরজমিনে নাজমা ভিলায় গিয়ে দেখা গেছে চাকচিক্যহীন বিশাল ভবন। অসংখ্য ফ্ল্যাট। সবগুলোতেই ভাড়াটিয়ায় ঠাসাঠাসি। এখানে কি প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটতো? যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা কি এখানেই থাকতো? কতদিন থেকে তারা এখানে আছে?
ইত্যাদি প্রশ্নের জবাব খুঁজতে মালিকপক্ষের খোঁজ করে জানা গেল তারা যুক্তরাজ্য প্রবাসী। কোনো কেয়ারটেকার নেই। মাসে একদিন মালিকের ভাগনা এসে টাকা তুলে নিয়ে যায়। বাসাটির মালিক ও তার ভাগ্নার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর। কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সাথে কথা বললেও তার নম্বর পাওয়া যায়নি।
ভাড়াটিয়ারা জানান, দোতলায় যে ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটেছে, তার খবর নিয়ে জেনেছেন ওই ফ্ল্যাটের গৃহকর্ত্রী সেদিন বাসায় ছিলেন না। কোনো আত্মীয়র বাড়ি গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে তার ছেলে এমনটি করতে পারে বলে তাদের ধারনা।
তারা আরও জানান, নাজমা ভিলায় আগে কখনো এমনটা ঘটেছে বলে তারা শুনেন নি।
আরেকজন ভাড়াটিয়ার মতে, যদি কখনো ঘটেও সেটাতো আর তারা জানেন না। এমনিতে বাসার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষজনক।
অপর একজন জানালেন, গ্রেপ্তারকৃতদের সবার বয়স ১৮/১৯ বছরের মধ্যে। হয়ত এরা সংঘবদ্ধভাবে এসব কাজ করে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন স্থানে, বাসা-বাড়িতে। তবে নাজমা ভিলায় এমনটি আর কখনো এমনটা ঘটেছে বলে শুনেন নি কেউ।
তারা সবাই বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, অভিযানে সুহেল সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গোলাপগঞ্জের বাদেপাশার জাহিদ হোসেন নামের অপর এক অপহৃতকে উদ্ধারও করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
সহ সম্পাদকঃ মোঃ সুমন আহমদ
সার্বিক ব্যবস্থাপকঃ মোঃ আলী হোসেন
স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ আবুল হাসান আহমদ,
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার
সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় :
উত্তর বাজার, মেইন রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: beanibazareralo@gmail.com
মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।