Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাব জ্জীবন

admin

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ০৬:২১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ০৬:২১ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাব জ্জীবন

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্ক
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী লালন মোল্লাকে (৫৪) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

Manual4 Ad Code

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় লালন মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

Manual5 Ad Code

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে ২০০৪ সালে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম সংসারের একটি ছেলে থাকলেও সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। তারা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় বসবাস করতেন। লালন স্থানীয় একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন।

Manual3 Ad Code

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই লালন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক কেনার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দিতেন। কয়েক দফা টাকা এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ২০২২ সালের আগস্টে তিনি আবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করতে থাকেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে ঘরের ভেতর হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাজেদাকে হত্যা করেন লালন। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম সেদিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লালন মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায় ঘোষণার পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধ করলে আইনের কঠোর শাস্তি এড়ানো যাবে না।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

Manual4 Ad Code

শেয়ার করুন