দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পারিবারিক দ্বন্দ্বে বাতির মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, শ্বশুড়, শ্বাশুড়ি- এই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার (৩ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মামনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাতির মিয়া একই ইউনিয়নের গুজাউরা গ্রামের ফুরমত আলীর ছেলে। তার স্ত্রী রুমানা আক্তার (২৫) একই ইউনিয়নের মামনপুর গ্রামের আনফর আলীর মেয়ে। বিয়ের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তারা রুমানার পিত্রালয়ে বসবাস করছিলেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে বাতির মিয়া ও তার স্ত্রী রুমানা আক্তারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২ মে) মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ডাটা রিচার্জ করাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরদিন রোববার সকালেও এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে বাতির মিয়া নিজের গলায় উড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান বলে দাবি করেন তার স্ত্রী রুমানা আক্তার। তবে ঘটনাটি নিয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ দেখা দেয়।
ঘটনার পর পুলিশ নিহতের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২৫) ও শ্বাশুড়ি খাইরুন নেছা (৫৫)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা ফুরমত আলী বাদী হয়ে রোববার রাতে দোয়ারাবাজার থানায় নিহতের স্ত্রী রুমানা আক্তার, শ্বাশুড়ি খাইরুন নেছা ও শ্বশুড় আনফর আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আটককৃত আসামি দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত নিহতের শ্বাশুড়ি খাইরুন নেছা ও স্ত্রী রুমানা আক্তারকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।