নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আবার প্রতিদিনই হাসপতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্তি একটি শিশু ইউনিট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।
তিনি জানান, আগামী শনিবার ( ৯ মে) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
জানা গেছে, সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকরা। এতে চাপ বাড়ছে। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম চললেও রোগীর চাপ বাড়ায় বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে আরও অন্তত ৮ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ১ জানুয়ারি থেকে ৭ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ২০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ১৬ জন রোগী রয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬ জন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে ২৬৪ শিশু।
এমন পরিস্থিতিতে সিলেটের হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু করা হচ্ছে শিশু ইউনিট। পাশাপাশি ৩২নং ওয়ার্ডটিকে হামে আক্রান্তদের জন্য সুনির্দিষ্ট রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগের পাশাপাশি শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে হাম চিকিৎসায় চলমান স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত থাকবে।
হামের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে, ওসমানী হাসপাতাল অতিরিক্ত একটি শিশু ইউনিট চালু করবে এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি হামের জন্য নির্দিষ্ট করা হবে, যা ০৯ মে ২০২৬, শনিবার থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল হামের জন্য যথারীতি কাজ চালিয়ে যাবে।