Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে যেভাবে মারা গেলেন চার জন

admin

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে যেভাবে মারা গেলেন চার জন

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট ও সুনামগঞ্জে পৃথক চারটি ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কানাইঘাট ও শান্তিগঞ্জে দুই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জৈন্তাপুরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে ভাতিজার হামলায় গুরুতর আহত এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অন্যদিকে জকিগঞ্জে অসুস্থ এক বৃদ্ধার মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য।

রবিবার (২৬ জুলাই) এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

Manual7 Ad Code

জানা গেছে, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মিকিরপাড়া গ্রামে একটি গাছের মগডাল থেকে সৈয়দ আহমদ (শারীফ) (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শরীফ উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মিকিরপাড়া গ্রামের মৃত কুটু মনির ছেলে।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে শারীফের মা বাড়ির পাশের একটি গাছের মগডালে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ছেলেকে ঝুলতে দেখেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনকে জানানো হলে খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করে।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অন্যদিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের কাপনাকান্দি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় এক মাস পর মারা গেছেন মনোফর আলী (৭০)। রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন বিকেলে মনোফর আলীর মালিকানাধীন রাস্তার ওপর বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তার ভাতিজা রাহিম আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। একপর্যায়ে রাহিম আলী ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন। পরে সাফিয়া বেগম মুগুর দিয়ে এবং রাজিয়া বেগম ও নাইমা বেগম লাঠি ও বাঁশ দিয়ে তাকে মারধর করেন।

Manual7 Ad Code

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসার পর তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহতের পুত্রবধূ মোছা. শিপা বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। আহত অবস্থায় দায়ের করা মামলাটি এখন মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আল আমিন জানান, এ ঘটনায় একজন নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুইজন আসামি জামিনে রয়েছেন এবং প্রধান আসামিসহ আরও কয়েকজন পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীনগর পঞ্চায়েত কবরস্থানের একটি গাছ থেকে আলাউদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আলাউদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ গাজীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে স্থানীয়রা কবরস্থানের একটি মেরা গাছের ঢালে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Manual4 Ad Code

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলি উল্লাহ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রামে হাসনা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু নিয়ে এলাকাজুড়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন হাসনা বেগম। প্রায় এক বছর ধরে তার দেখাশোনা করছিলেন তার নাতনি মাহমুদা আক্তার (১৪)। রবিবার (২৬ জুলাই) মাহমুদার বাবা মাওলানা ফুজায়েল আহমদ মেয়েকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে এলে মাহমুদা যেতে রাজি হননি। পরে তাকে জোর করে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় ঘরে অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন হাসনা বেগম। কিছু সময় পর স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

বারঠাকুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু জানান, বৃদ্ধার মৃত্যুর পর স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।

শেয়ার করুন