Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে দুই প্রতিষ্ঠানের টানাটানিতে বন্ধ নতুন ভবন নির্মাণ

admin

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:০০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে দুই প্রতিষ্ঠানের টানাটানিতে বন্ধ নতুন ভবন নির্মাণ

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্ধিত হয়েছে সিলেট মহানগর। সেই সাথে বাড়ছে ভবন। কেউ খালি প্লটে তুলতে চান বাসা-বাড়ি, আবার কেউ পুরনো ভবন ভেঙে পরিকল্পনা নিয়েছেন অট্টালিকা নির্মাণের। কিন্তু এই ভবন নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘কর্তৃপক্ষের অনুমোদন’। এতোদিন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ভবনের নকশা অনুমোদন, তত্ত্বাবধান ও ছাড়পত্রের কাজ করলেও এবার সেটির দায়িত্ব নিতে চায় নবগঠিত সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)।

তাদের দাবি, সিউক গঠনের পর সিসিক কোন ভবন নির্মাণের অনুমতি বা নকশা অনুমোদন করলে সেটা হবে বেআইনী ও অবৈধ। সিউকের অনুমোদন না নিলে ভবন মালিককে পরবর্তীতে পড়তে হবে ভোগান্তিতে।

Manual4 Ad Code

আর সিসিক বলছে, মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোন নির্দেশনা না আসায় আইনসিদ্ধভাবে তারা নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন গ্রহণ করছেন। তবে, সূত্র জানিয়েছে গত ৬ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সিসিককে এ সংক্রান্ত একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় সরকারের দুই প্রতিষ্ঠানের এই টানাটানিতে বিপাকে পড়েছেন ভবন মালিকরা। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে তারা অনুমোদন নিবেন সেটা বুঝে ওঠতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরীতে ভবন নির্মাণের অনুমতি ও নকশা অনুমোদনের জন্য প্রতি মাসে সিসিকে শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। করপোরেশনের নিয়মিত সভায় সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি সিউক প্রতিষ্ঠার পর ১৯ জুন বিএনপি নেতা রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান নিয়োগের পর সিউকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ আগস্ট গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ও ভবন নির্মানের নকশা অনুমোদনের জন্য সিউকের অনুমতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এরপর থেকে শুরু হয় সিসিক ও সিউকের মধ্যে টানাপোড়েন। সিউকের অভিযোগ, নিয়ম জেনেও সিসিক কর্তৃপক্ষ বেআইনীভাবে আবেদন গ্রহণ করে ‘ব্যাকডেটে’ অনুমোদন দিচ্ছে। সিউকের বিজ্ঞপ্তি জারির পর কেউ সিসিক থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন করিয়ে নিলে তা বেআইনী হবে। ভবন নির্মাণের পর সিউকের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে গেলে তখন ভোগান্তিতে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে-এমনটা বলছে সিউক।

Manual8 Ad Code

এদিকে, সিসিক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় সিসিক নকশা অনুমোদনের আবেদন গ্রহণ চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ সভায় ৬০০-৭০০ নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখনো কয়েকশ আবেদন জমা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে আবেদনগুলো।

Manual6 Ad Code

দুই প্রতিষ্ঠানের টানাটানিতে গ্যাড়াকলে পড়েছেন নগরবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট নগরীর পীরমহল্লা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘সিসিক ও সিউক উভয়ই বলছে তারা ভবন নির্মাণের অনুমতিদাতা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা বোঝা দুঃসাধ্য। তাই কারও অনুমতি না নিয়েই বাসা নির্মানের কাজ শুরু করে দিয়েছি। দুই প্রতিষ্ঠানের রশি টানাটানি শেষ হলে কোন কৌশল অবলম্বন করে অনুমতি নিয়ে নেব।’

এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া যাবে না, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোন নিদের্শনা আসেনি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকেই ভবন নির্মাণের অনুমতির আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পেলে কার্যক্রম চলমান থাকবে। আর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ পেলে জমা হওয়া আবেদনগুলো সিউকে হস্তান্তর করা হবে।

Manual2 Ad Code

সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন পাস হওয়ার পর ভবন নির্মাণের অনুমতি, তত্ত্বাবধান বা ছাড়পত্র দেয়ার এখতিয়ার আর সিসিকের হাতে নেই। আইন বলে দিয়েছে সেটি দেখবে সিউক। এখন যদি, কোন ভবন মালিক সিসিক থেকে অনুমোদন নিয়ে থাকেন তবে সেটি হবে অনিয়মতান্ত্রিক ও অবৈধ। ভবিষ্যতে এ জন্য ভবন মালিকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

শেয়ার করুন