Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না: তারেক রহমান

admin

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০১:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০১:১৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না: তারেক রহমান

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার বলে এমনটি আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো- প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যাভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট এবং পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।
নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলো না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সকলের।

Manual7 Ad Code

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে ‘আমরা বাংলাদেশি’।

Manual4 Ad Code

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট এবং পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।

Manual1 Ad Code

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন।

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া।

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন