Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আর কোনো পথ নেই’, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আতঙ্ক

admin

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
‘আর কোনো পথ নেই’, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আতঙ্ক

Manual1 Ad Code

ডিজিটাল ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ভেঙে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আশঙ্কার ছায়া নেমে এসেছে। নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন উদ্বেগে আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। খবর এএফপি’র।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেন, দুই পক্ষের মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে আপাতত তা মেটানো সম্ভব হয়নি।

পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে, কিংবা দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মানবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোনো সমঝোতা ছাড়াই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করেছে।

দোহাভিত্তিক ৩২ বছর বয়সী অর্থনৈতিক পরামর্শক আইশাহ বলেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এখন প্রতিদিন কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’ তবে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় অনেকেই বিস্মিত নন।

তেল আবিবের ৩৮ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষক লরা কাউফম্যান এএফপিকে বলেন, ‘শুরু থেকেই খুব বেশি আশা ছিল না। দুই পক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু চায়। আলোচনায় সত্যিকারের আগ্রহ কারও মধ্যে দেখা যায়নি।’

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ অর্জন করেছে। বিপরীতে ৩২ শতাংশ এটিকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। ইরানেও স্বল্প সময়ের জন্য তৈরি হওয়া শান্তির আশা দ্রুতই ভেঙে যায়।

তেহরানের একটি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের ৩০ বছর বয়সী কর্মী মাহসা বলেন, ‘আমি সত্যিই চেয়েছিলাম শান্তি হোক। প্রায় ৪৫ দিন ধরে সবাই দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিল। এটা খুবই খারাপ পরিস্থিতি।’ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জায়গাতেও আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে বসবাসকারী মিশরীয় গৃহিণী ইমাম বলেন, ‘পরিস্থিতি আবার খারাপ হবে কি না, তা নিয়ে আমি চিন্তিত। আগের হামলাগুলো আমাকে ভীষণ চাপের মধ্যে ফেলেছিল। সন্তানদের কাছে সেই চাপ না পৌঁছাতে অনেক চেষ্টা করেছি।’

এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে তাৎক্ষণিক নৌ অবরোধের নির্দেশ দেন। তিনি ঘোষণা দেন, কোনো জাহাজ তেহরানকে শুল্ক দিলে সেটি আটকানো হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ভবিষ্যতে তেলের আয় থেকেও বঞ্চিত করার হুমকি দেন।

Manual4 Ad Code

তিনি লেখেন, ‘কোনো ইরান আমাদের বা শান্তিপূর্ণ জাহাজে হামলা চালালে, তাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’
এমন ঘোষণার সময়েই অনেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার আশা করছিলেন।

Manual7 Ad Code

রোববারই সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার পর দেশটির পূর্ব-পশ্চিম প্রধান তেল পাইপলাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের একজন ফার্মাসিস্ট বলেন, ‘যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে—এ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’ ইরানে অনেকের মধ্যেই অনিবার্যতার অনুভূতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পোপের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্পপোপের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
৩৭ বছর বয়সী হামেদ বলেন, ‘আমি শান্তি চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে যুদ্ধ ও মুখোমুখি সংঘাত ছাড়া আর কোনো পথ নেই। যা দেখছি ও শুনছি, তাতে মনে হচ্ছে আমরা আবার যুদ্ধে যাচ্ছি। আর সেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে।’

Manual7 Ad Code

এদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যত শুরুই হয়নি। চুক্তির আওতায় দেশটি ছিল কি না—তা নিয়েই বিরোধ চলছে। এর মধ্যেই ইসরাইল সেখানে হামলা জোরদার করেছে।

দন্তচিকিৎসক কামাল কুতাইশ লেবাননকে ‘পুরো বিশ্বের লড়াইয়ের ময়দান’ আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, সবকিছুই নির্ভর করছে শান্তি প্রচেষ্টার অগ্রগতির ওপর।
তিনি বলেন, ‘আলোচনা ভেঙে গেলে শুধু আমাদের নয়, পুরো বিশ্বের ওপরই এর প্রভাব পড়বে।’

শেয়ার করুন