Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

admin

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:১৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ছয়জনকে হত্যার পর তাদের লাশ ভ্যানে করে নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার আলোচিত মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। ৫৯১ পৃষ্ঠার এই রায়ে অপরাধের ঘটনা, পরিকল্পনা ও আসামিদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।রোববার (১৫ মার্চ) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ স্বাক্ষরের পর এ রায় প্রকাশ করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং যুবলীগের কর্মী রনি ভূঁইয়া।

Manual5 Ad Code

এ মামলায় আরও সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস এবং ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন।

এ ছাড়া আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি এ মামলায় অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রসিকিউশন পক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি। অভিযোগগুলো গুরুতর হলেও কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টতার মাত্রা প্রমাণে ঘাটতি থাকায় কয়েকজনের সাজা কমানো হয়েছে। আদালতের মতে, তাদের ভূমিকা মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিচালিত অভিযানে সহায়তা করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মামলাটির সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। এ মামলায় মোট ১৬ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং বাকি আটজন পলাতক রয়েছেন।

তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন আটজন। তারা হলেন- আবদুল্লাহিল কাফী (যাবজ্জীবন), শহিদুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আরাফাত হোসেন (যাবজ্জীবন), আবদুল মালেক (মৃত্যুদণ্ড), আরাফাত উদ্দীন (৭ বছরের কারাদণ্ড), কামরুল হাসান (৭ বছরের কারাদণ্ড), শেখ আবজালুল হক (ক্ষমা) ও মুকুল চোকদার (মৃত্যুদণ্ড)।

Manual2 Ad Code

পলাতক আট আসামি হলেন- সাইফুল ইসলাম (মৃত্যুদণ্ড), সৈয়দ নুরুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আসাদুজ্জামান রিপন (যাবজ্জীবন), এ এফ এম সায়েদ (মৃত্যুদণ্ড), মাসুদুর রহমান (যাবজ্জীবন), নির্মল কুমার দাস (যাবজ্জীবন), বিশ্বজিৎ সাহা (মৃত্যুদণ্ড) ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া (মৃত্যুদণ্ড)।

মামলার ঘটনার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আশুলিয়া থানা এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তাদের মরদেহ একটি ভ্যানে তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, আস-সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় ছিলেন, তাকেও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

Manual3 Ad Code

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে এটিই প্রথম রায়। এর আগে একই ধরনের অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ কয়েকটি রায় ঘোষণা করেছে।

এর মধ্যে একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Manual7 Ad Code

এ ছাড়া গত ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং অন্য পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

শেয়ার করুন