Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শেহবাজের কথা শুনলেও লেবাননে হামলা থামাবে না নেতানিয়াহু

admin

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:১২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শেহবাজের কথা শুনলেও লেবাননে হামলা থামাবে না নেতানিয়াহু

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual8 Ad Code

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলের অনড় অবস্থানে নতুন করে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সব পক্ষ লেবাননসহ সর্বত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আওতাভুক্ত নয় এবং লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের আশা জাগলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় সংঘাত থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

Manual1 Ad Code

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নীতিগত সমর্থন জানালেও লেবাননকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। নেতানিয়াহুর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে আসা যাতে দেশটি আর কোনোভাবেই পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী হুমকি তৈরি করতে না পারে।

Manual6 Ad Code

ইসরায়েল এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার পথকে সাধুবাদ জানালেও নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। নেতানিয়াহুর এই কঠোর বার্তা মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাময়িক সমঝোতাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক আবেগঘন বার্তায় দাবি করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে লেবাননসহ সব অঞ্চলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে একমত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি একে একটি বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শেহবাজ শরিফ আরও জানান, এই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে একটি চূড়ান্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে যেখানে সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রতিনিধি দলগুলো অংশ নেবে। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।

বর্তমানে শেহবাজ শরিফের ‘সর্বত্র যুদ্ধবিরতি’র দাবি এবং নেতানিয়াহুর ‘লেবানন বাদ দিয়ে যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণার মধ্যে এক বিশাল বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১০ এপ্রিলের ইসলামাবাদ বৈঠকটিই হবে এই সংকটের চূড়ান্ত ভাগ্যনির্ধারক।

Manual7 Ad Code

যদি ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এই যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে কি না তা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদের দিকে থাকলেও নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ পুরোপুরি সরতে দিচ্ছে না।

শেয়ার করুন