Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিবাসীরা ফ্রান্স দখল করে নিয়েছে, প্যারিস শিগগিরই মুসলিম শহরে পরিণত হবে: ট্রাম্প

admin

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:৫৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
অভিবাসীরা ফ্রান্স দখল করে নিয়েছে, প্যারিস শিগগিরই মুসলিম শহরে পরিণত হবে: ট্রাম্প

Manual8 Ad Code

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রিপাবলিকান পার্টি যখন বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার ক্যানসাসে এক জনসভায় ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ ও কড়া সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, ‘অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টরা মিলে ফ্রান্সকে দখল করছে, লুটপাট চালাচ্ছে, পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা এমনটা ঘটতে দেব না।’

দিনের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে পুরোনো এক কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তাকে আমি অনেক আগেই বলেছিলাম, আপনারা ফ্রান্সে বড় ভুল করছেন। সারা দুনিয়ার মানুষকে আপনারা দেশে ঢুকতে দিচ্ছেন…প্যারিস খুব শিগগিরই মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে।’

এর আগে সোমবার ৮০ বছর বয়সি এই প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘অভিবাসীরা ফ্রান্স দখল করে নিয়েছে। তাদের অবশ্যই সীমান্ত বন্ধ করতে হবে, দ্রুত!’

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে উইকএন্ডে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনেক জায়গায় এই বিক্ষোভ লুটপাট ও সহিংস সংঘাতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা আংশিক কারফিউ জারি করেন।

Manual4 Ad Code

ফ্রান্সের এ বিক্ষোভ মূল্যস্ফীতির কারণে শুরু হলেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সহিংস সংঘর্ষকে নিজের অভিবাসন-বিরোধী নীতির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন ট্রাম্প। এই অভিবাসন-বিরোধী নীতিকে পুঁজি করেই তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান মার্শাল ফান্ড-এর সিনিয়র ফেলো জে.সি. লিন্টজেনিখ এএফপিকে বলেন, ‘তারা ফ্রান্সের এই সংকটকে নিজেদের নির্বাচনি প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।’

৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।

মার্কিন নাগরিকদের ভোটগ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতে ভোটারদের রিপাবলিকান পার্টি ও নিজের মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা) আন্দোলনের পক্ষে টানতে ট্রাম্প সম্ভাব্য সব কৌশলই আঁকড়ে ধরছেন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ের অধ্যাপক জাস্টিন ভাইস এএফপিকে বলেন, ‘মাগা আন্দোলনের শুরু থেকেই ইউরোপকে মার্কিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের বর্ধিত ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে যে তাদের রাজনৈতিক যন্ত্রের চাকা সচল হয়ে উঠবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

Manual8 Ad Code

ফ্রান্সের অস্থিরতার ভিডিওগুলো যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন শনিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এক্স-এ লেখেন, ‘পশ্চিমা উদারপন্থিরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের ফ্রান্সে ডেকে এনেছে…মূলধারার সমাজের সঙ্গে তাদের খাপ খাওয়ানো এবং সামঞ্জস্যের মৌলিক প্রশ্নগুলোকে তারা পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।’

Manual1 Ad Code

গ্লেন বেক, বেনি জনসন, নিক সর্টর ও জ্যাক পোসোবিয়েকের মতো মার্কিন ডানপন্থি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও একই সুরে কথা বলেছেন। পশ্চিমা আত্মপরিচয়ের এ সংকটের জন্য তারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের দায়ী করেছেন।

ভাইস বলেন, ‘সার্বিকভাবে অভিবাসন এবং বিশেষ করে মুসলিম অভিবাসন—যদি আদৌ আলাদা করে এমন কিছু থেকে থাকে—তার বিরুদ্ধে যেসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, এই দাঙ্গাকে সেগুলোরই বাস্তব প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর সিনিয়র পলিসি ফেলো এবং সংস্থাটির প্যারিস কার্যালয়ের প্রধান সিলিয়া বেলিন মনে করেন, ইউরোপের জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া মার্কিন প্রশাসনের এই মন্তব্যগুলো মূলত তাদের ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ’।
তিনি এএফপিকে বলেন, পরিস্থিতি আরও ‘উসকে দিতে’ ট্রাম্প ও তার মিত্ররা ‘তড়িঘড়ি করে এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন’।

Manual5 Ad Code

শেয়ার করুন