স্টাফ রিপোর্টার:
সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে সাগরিকা আক্তার বুলবুলি (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শিমুল মিয়ার বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৩ মে) দিবাগত গভীর রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী শিমুল মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহত সাগরিকা আক্তার বুলবুলি সদর উপজেলার করিমপুর গ্রামের ইন্তাজ আলী বিশ্বাসের মেয়ে। অভিযুক্ত শিমুল হোসেন একই উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের রহিম মিয়ার ছেলে।
নিহত বুলবুলির বাবা ইন্তাজ আলী বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শিমুল আমার মেয়ে বুলবুলির ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য সে বুলবুলিকে চাপ দিচ্ছিল। এর আগে মারধরের শিকার হয়ে বুলবুলি আমার বাড়িতে চলে এসেছিল। গত তিনদিন আগে শিমুল বুঝিয়ে তাকে আবার নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর শনিবার গভীর রাতে বুলবুলিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সে।
স্বজনরা জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় রাতেই বুলবুলিকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে মারা যান বুলবুলি। এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক স্বামী শিমুলকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গৃহবধূ বুলবুলিকে কুপিয়ে জখম করার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী শিমুল মিয়া পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।