জুড়ীতে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

Daily Ajker Sylhet

admin

৩০ এপ্রি ২০২৩, ০৭:০৫ অপরাহ্ণ


জুড়ীতে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

জুড়ী প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে এক মহিলার নিকট থেকে প্রতারক চক্র বিকাশ ও নগদ এর মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি শনিবার দুপুরে উপজেলার কামিনীগঞ্জ বাজারে ঘটেছে।

প্রতারণার শিকার জুবেদা আক্তার (২৫) উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল গ্রামের বাসিন্দা কামাল মিয়ার স্ত্রী।

জুবেদা আক্তার জানান, প্রায় দুই মাস পূর্বে মোবাইল ফোনে টিকটকে দেখি এক লোক ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার কথা বলছে। আমি উনাকে ম্যাসেজ দিয়েছিলাম। শনিবার সকালে ওই লোক ০১৯৩৩-৬৮০৩৯০ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে আমাকে পুরস্কার ১লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে এবং আমার বিকাশে ৩০ হাজার টাকা পাঠায়। আমার মোবাইলের ম্যাসেজ লক হয়ে গেছে, সেটা খোলার জন্য ফোনে কথা বলতে বলতে একটি বিকাশের দোকানে গিয়ে আমার বিকাশে ২০ হাজার টাকা লোড করতে বলে। আমি কামিনীগঞ্জ বাজারস্থ হাজী ফজলুর রহমান শপিং সেন্টারে অবস্থিত আমার গ্রামের এক জনের দোকানে গিয়ে টাকা ছাড়তে বললে তিনি আমার বিকাশে ২০ হাজার টাকা বিকাশ করেন। উনি আমাকে লাইনে রেখে ওই দোকান থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ৫টি বিকাশ ও নগদ নম্বের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছাড়ায় একং আমি এই টাকাসহ আরো এক লাখ টাকা পাব বলে জানায়।

এমনকি টাকা পেতে হলে পিন কোড পরিবর্তনের কথা বলে আমার বিকাশের পিন নম্বর জেনে নেয়। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মোবাইল বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, টাকা পাঠানোর সময় দোকানী বারবার বিষয়টি জানতে চান এবং আমি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছি বলে জানান। কিন্তু ওই প্রতারকের শেখানো কথায় বলি যে আমার ভাইয়ের কাছে টাকা পাঠাচ্ছি, হাতের ব্যাগে টাকা আছে দিয়ে যাব।

অরিজিন টেলিকমের মালিক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ওই মহিলা সকাল ১০.৪৫ মিনিটে নিজের বিকাশ ০১৭৭৫-৩১২০৭০ নম্বরে ২৫ হাজার, ১০.৪৯ মিনিটে প্রতারকের বিকাশ ০১৯১৪-০৫৩৫৪৯ নম্বরে ২৫ হাজার, ১০.৫৬ মিনিটে একই নম্বরে নগদে ২৩ হাজার, ১১.০৩ মিনিটে বিকাশ ০১৯৪৯-৯৮০৭২৪ নম্বরে ২৭ হাজার, ১১.২৭ মিনিটে বিকাশ ০১৬০২-৯১৬৮১৮ নম্বরে ২৫ হাজার ও ১২.২১ মিনিটে বিকাশ ০১৬০২- ৮৮৪২৮৬ নম্বরে ২৫ হাজারসহ মোট দেড় লাখ টাকা পাঠান।

আমি উনাকে বার বার সতর্ক করেছি। কিন্তু উনি আমার কথায় কর্ণপাত করেন নি। উনি বলেছেন, ভাইয়ের কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন, উনার ব্যাগে টাকা আছে সব টাকা দিয়ে যাবেন। কিন্তু টাকা দেন নি। এক পর্যায়ে যখন বুজলেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। উনি যেহেতু আমার গ্রামের লোক তাই মুরব্বীরা বসে আমার টাকা উদ্ধার করে দিবেন বলে জানিয়েছেন।

 

Sharing is caring!