Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইজেরিয়ার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত অন্তত ১৬২

admin

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
নাইজেরিয়ার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত অন্তত ১৬২

Manual4 Ad Code

ডিজিটাল ডেস্ক :
নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুয়ারা রাজ্যের দুটি গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ওরু এবং নুকু গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যা চলতি বছরে দেশটিতে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বায়ো বুধবার বিকেলে এই নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সাথে সম্পৃক্ত ‘লাকুরাওয়া’ নামক একটি সশস্ত্র দল এই হামলা চালিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।

Manual1 Ad Code

হামলার প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জানিয়েছেন যে, বন্দুকধারীরা গ্রামের বাসিন্দাদের এক জায়গায় জড়ো করে হাত পেছনে বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। কায়ামা অঞ্চলের রাজনীতিবিদ সাইদু বাবা আহমেদ রয়টার্সকে জানান, হামলাকারীরা কেবল মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা অসংখ্য ঘরবাড়ি এবং দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

Manual3 Ad Code

তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় গ্রাম থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে এবং আশপাশের ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রাজাসহ বেশ কিছু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, নিহতের সংখ্যা ১৭০ জন ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে যে, গত পাঁচ মাস ধরে বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের নিয়মিত ‘হুমকি’ দিয়ে চিঠি পাঠালেও নিরাপত্তা বাহিনীর গাফিলতির কারণেই এই বিশাল বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়নি।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা মূলত জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্য যারা নিয়মিত গ্রামে এসে প্রচার চালাত। তারা গ্রামবাসীদের নাইজেরিয়া রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে শরিয়া আইন মেনে চলার দাবি জানিয়ে আসছিল। গত মঙ্গলবার একটি ওয়াজ মাহফিল চলাকালীন গ্রামবাসীরা তাদের এই অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করলে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে।

নাইজেরিয়ার কুয়ারা রাজ্যের গভর্নর আবদুল রহমান আবদুল রাজাক এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে পুরো নাইজেরিয়া জুড়ে নিরাপত্তা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জিহাদি বিদ্রোহ, উত্তর-পশ্চিমে ‘ডাকাত’ দলের লুটপাট ও অপহরণ এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

Manual4 Ad Code

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল যে তারা কুয়ারা রাজ্যে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১৫০ জন সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছে। কিন্তু তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিশাল বেসামরিক হত্যাকাণ্ড নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থাকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এল।

Manual2 Ad Code

শেয়ার করুন