Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

admin

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০১:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০১:২০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ আগ্রাসনের পর প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসলো ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। আবুধাবিতে এই বৈঠকটি হয়েছে। যদিও বৈঠকের ধরণ পরিবর্তিত হলেও তাদের মধ্যকার মতপার্থক্যের মূল জায়গাগুলোতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে প্রত্যাশা সীমিত বলেই মনে করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন শান্তি চুক্তি নিয়ে চাপ দিচ্ছেন। চলতি সপ্তাহে তিনি বলেছেন, একমত না হতে পারলে দুই পক্ষ হবে ‘স্টুপিড’। তবে তার দূতদের জোরালে কূটনীতি সত্ত্বেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অমীমাংসিত রেখেই ইউক্রেন ও রাশিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আয়োজন করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

ইউক্রেন এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে কারণ তারা সবচেয়ে বেশি শান্তি চাইছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে রাখার প্রয়োজন তাদের। গত বছর তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছিল।

এখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলছেন, দাভোসে ট্রাম্পের সাথে তার আলোচনা ছিল ‘সত্যিকার অর্থেই ইতিবাচক’। এর ফল হিসেবে তিনি রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার বিরুদ্ধে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা পাবার আশা করছেন।

এর আগে ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের পর জেলেনস্কিকে গম্ভীর দেখা গেলেও এবার তাকে ‘অস্বাভাবিক চনমনে’ মনে হয়েছে। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া আলোচনার ফলাফল নিয়ে তিনি বেশ সতর্ক।

তিনি বৈঠকটিকে একটি ‘পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে একে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। আমাদের আশা করতে হবে যে এটি আমাদের শান্তির কাছে নিয়ে যাবে, বলেছেন তিনি।

Manual3 Ad Code

জেলেনস্কি কিছুদিন ধরেই বলে আসছেন যে শান্তির জন্য একটি চুক্তির দিকে তারা ৯০ ভাগ এগিয়ে গেছেন। তবে শেষ ১০ শতাংশই কঠিন কারণ রাশিয়া পুরো প্রস্তাবটিই প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

এটি আমাদের পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে। এটা ভূখণ্ডের বিষয়। এটির এখনো মীমাংসা হয়নি, বলেছেন তিনি। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দনবাস অঞ্চলের একটি বড় অংশ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বলে আসছে। তবে ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাজনীতিকরা প্রায়শই ‘রেড লাইন’ এর কথা বলে থাকেন। কিন্তু দনবাসের সেই রেড লাইন টানা হয়েছে ইউক্রেনের সৈন্যদের রক্তের বিনিময়ে। জেলেনস্কি চাইলেই সেই সীমাটি অতিক্রম করতে পারেন না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রাশিয়া যদি ইউক্রেনে আবারো সামরিক হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে কী করবে। ইউক্রেন বলছে এই ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ তাদের দরকার।

জেলেনস্কি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি হয়ে গেছে। যদিও এর বিস্তারিত আমাদের জানা নেই। এক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া কী হবে তাও একটি বড় প্রশ্ন।

আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া কোনো নিশ্চয়তা আসলে কতটা নির্ভরযোগ্য তা নিয়েও বড় ধরনের সন্দেহ আছে: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে তার অবস্থান নেটোকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে।

তিনি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল নীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। অথচ এই নীতিই ইউক্রেনে পশ্চিমা সহায়তার ভিত্তি। সুতরাং কিয়েভ কী ভবিষ্যৎ সংকটে তার কাছে থেকে সহায়তা আশা করতে পারে। তবে আপাতত, ইউক্রেনের হাতে কোনো বিকল্প নেই।

আর ভ্লাদিমির পুতিনকে বিশ্বাস করার বিষয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই যে তার লক্ষ্য এখন বদলে গেছে। তিনি আসলেই এটি চাইছেন না, দাভোসে জেলেনস্কি বলেছেন শান্তি ও পুতিনের বিষয়ে।

Manual4 Ad Code

ক্রেমলিন বলছে, তারা যা চাইছে সেটি আলোচনার টেবিলে না এলে যুদ্ধক্ষেত্রেই নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করবে। যদিও বিপুল সংখ্যক সৈন্য হারিয়েও তারা সেখানে সফলতা অর্জন করতে পারেনি এখনো।

Manual1 Ad Code

সে কারণে তারা আবারো দেশজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা আগের চেয়ে বেশি পরিকল্পিত ও ধ্বংসাত্মক। ওদিকে তীব্র শীতে মানুষজন কাঁপছে এখন।

কিয়েভের মেয়র আবারো বলেছেন, যাদের যাবার মতো জায়গা আছে তারা যেন শহর ছাড়েন। শত্রুপক্ষ সম্ভবত শহর ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখবে, ভিটালি ক্লিটসকো বলেছেন।

বারংবার হামলার কারণে শহরের পুরো ব্যবস্থাপনা নাজুক হয়ে গেছে। আমি শহরবাসীকে সততার সাথে বলছি: পরিস্থিতি খুবই কঠিন এবং হয়তো সবচেয়ে কঠিন সময় এখনো আসেনি, বলেছেন তিনি।

শেয়ার করুন