Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি গুজব’

admin

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ০৪:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ০৪:১৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি গুজব’

Manual6 Ad Code

রাজশাহী সংবাদদাতা:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টিকে নিতান্তই গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে রিউমার বা কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে, অনেকেই শুনতে চাচ্ছে আমাদের থেকে। এটা আমরা এর আগেও স্পষ্টভাবে বলেছি- এখনই কোনো রাজনৈতিক দল খোলার কোন অভিপ্রায় আমাদের নেই।’

Manual7 Ad Code

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীতে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

Manual5 Ad Code

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যারা আছেন, কারোরই ক্ষমতার অভিলাষ নেই। সবারই পেশাগত জীবন আছে, সবাই সেখানে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ একটা অভুত্থানের মধ্য দিয়ে যে দায়িত্বটা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দিয়েছেন, সেটি যথাযথভাবে পালন করে মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তবে সংস্কারের আগে নির্বাচন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘যে সংস্কারের কথা আমরা বলছি সেটা ছিল একদফারই অংশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে অভুত্থানের মধ্য দিয়ে; কিন্তু একদফার যে মূল অংশ, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ- সেই ব্যবস্থার বিলোপের জন্য যে সংস্কারগুলো অত্যাবশকীয় সেগুলো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এটা জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই হয়েছে। জনগণ নির্বাচনের জন্য কিংবা ক্ষমতার পালাবদলে অভুত্থানের জন্য আসেনি। যদি আসত সেটা ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেই আসত বলে আমি মনে করি। এই অভুত্থান হয়েছে স্পষ্টভাবেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের জন্য।’

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি যে ব্যবস্থাটা বিদ্যমান আছে এটা সংস্কার না করে দিয়ে যেতে পারি, আমরা মনে করি যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, যেকোনো রাজনৈতিক সরকার এ অটোক্রেডিক একটা সিস্টেমের মধ্যে সে নিজেও অটোক্রেডিক হয়ে উঠতে বাধ্য হবে। সে কারণে আমরা মনে করি- এই সংস্কারটা অত্যাবশকীয়। দেশের জনগণ যেভাবে দেশকে গড়তে চাইবেন, দেশ পুনর্গঠনের যে প্রস্তাবনা দেশের মানুষের মধ্য থেকে উঠে আসবে সেটার বাস্তবায়ন করাটাই আমাদের দায়িত্ব হবে।’

Manual1 Ad Code

এই সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে বসা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম আছেন, তিনি এবং উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান- এ দুজনের নেতৃত্বে আমাদের একটি টিম করা হয়েছে। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রেগুলার বেসিসে বসছেন। অফিশিয়াল বসার বাইরেও আনঅফিশিয়ালি যোগাযোগ রাখছেন যাতে আমাদের মধ্যে কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় রাজনৈতিক দলসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি, সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’

গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গত শনিবার আমরা বিজিএমইতে তিনজন উপদেষ্টাসহ আমাদের পুরো টিমসহ একটা আলোচনায় ছিলাম। রোববার থেকে আজ মঙ্গলবার, এ সময়টাতে কিন্তু গত সপ্তাহের তুলনায় যে আনরেস্ট ছিল সেটা ৫ থেকে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। কিছু কিছু জায়গায়, খুব স্পেশিফিক দুই-তিনটা কারখানায় এখন আনরেস্টের মতো সিচুয়েশন আছে। সেটাও আমরা মনে করি দ্রুতই প্রশমন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে কমিটি করে দিয়েছি, পর্যবেক্ষণ সেল করা হয়েছে। সেখানে শ্রমিকেরা অভিযোগ জানাচ্ছেন। তারা আস্থা রেখেছেন বলে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। সেল খুব দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে। আমাদের সেই কমিটি কিন্তু বিভিন্ন জায়গায়, আশুলিয়ায় শ্রমিক আনরেস্টের জায়গায় ভিজিট করছেন এবং সমস্যাগুলোকে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করছেন।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বয়কেরা মতবিনিময় সভা করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়া নিয়েও প্রশ্ন করেন একজন সাংবাদিক। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘অভুত্থানের পর আমি এবং উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সরকারে এসেছি। আমরা আমাদের যে দায়িত্ব সেটা পালন করছি। যারা এই অভুত্থানে ছাত্রদের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা মনে করছেন দেশ পুনর্গঠনের যে লড়াইটা সামনে আছে, সেই লড়াইয়ে দেশের জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন করতে হলে তো জনগণের কথা শুনতে হবে। সেই কারণে তারা সব জায়গায় টিম করে যাচ্ছেন এবং মানুষের কথা শোনার চেষ্টা করছেন। সেখানে কিছু পরিস্থিতির কথা আমি শুনতে পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এটা পুরনো কালচার। যেকোনো ভালো উদ্যোগকে বিতর্কিত করার জন্য কিছু মানুষ তো থাকেই। সমন্বয়ক পরিচয়ে অনেক ভুয়া, অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করছেন। যে দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর কথা আমরা বলি, তার পরই অনেকে চাঁদাবাজির মতো ঘটনা করছেন। আমরা মনে করি, এগুলোর অবসান ঘটবে। আমাদের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য হয়েছে তা থাকবে এবং তার মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে পারব।’

এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক আবদুর রহিম খান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা, বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন