Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি : সুনামগঞ্জের ৮ জনের মৃত্যু

admin

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০১:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০১:০৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি : সুনামগঞ্জের ৮ জনের মৃত্যু

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটেছে। এদের মধ্যে ৮ জনই সুনামগঞ্জের বলে জানা গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (ডিআইও-১) মো. আজিজুর রহমান বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, দিরাই ও জগন্নাথপুরের আটজন মারা গেছেন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, যাত্রাপথে খাদ্য ও পানির সংকট চরমে পৌঁছালে অনেকেই দুর্বল হয়ে পড়েন এবং পর্যায়ক্রমে মারা যান। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও ‘ভুক্তভোগী’ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার চারজন, জগন্নাথপুরের চারজনের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে এসেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই অনেকে এসব সংবাদ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।সংবাদ পরিবেশন

Manual4 Ad Code

নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৪ জন রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তারা হলেন- উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)। তাদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, তারাপাশা গ্রামের ওয়াকিব মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান নামের এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌযানে পাঠানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।

Manual7 Ad Code

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামাঞ্চল। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জড়িত মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Manual1 Ad Code

স্থানীয় উমেদ আলী জানান, তার ভাগ্নে নুরুজ্জামান সরদার ময়না এ ঘটনায় মারা গেছেন। একই নৌকায় থাকা জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহান আহমেদ জানিয়েছেন, তার চোখের সামনেই এই চারজনসহ আরও অনেকের মৃত্যু হয় এবং তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার বলেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেননি। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের খবর পাওয়া গেলেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, ভূমধ্যসাগরে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দিরাইয়েরও চারজন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

শেয়ার করুন