Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

admin

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ১২:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ১২:১৫ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

Manual6 Ad Code

ডিজিটাল ডেস্ক :
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মঙ্গলবার (২জুন) সকালে আদালতে জবানবন্দি দিতে শুরু করেন।

Manual4 Ad Code

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুহরু হয়। এর আগে সোমবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ওরফে স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, বাদীর সাক্ষ্য শেষ হলে আসামিপক্ষ তাকে জেরা করবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় দুই আসামিকেই আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

অভিযোগপত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ পরবর্তীতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা এবং পরবর্তীতে মরদেহ গুম করার জন্য গলা কেটে দুই ভাগ করা, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা ও দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে তার স্বামীর এসব কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

Manual6 Ad Code

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত সমূহের ফরেনসিক, রিপোর্ট, ডিএনএ পরীক্ষা এবং মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমাণ হয় ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি, অ্যাভিনিউ-৭ এর ৩৭ নম্বর বাসার ৫ তলা ভবনের ৩য় তলার উত্তর পাশের কক্ষের বেডরুম থেকে ৮ বছরের শিশু পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মস্তকবিহীন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর রঙের বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তার দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা শিশুকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলে। পরে মরদেহ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দ্বারা গলা কেটে ফেলেন। কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পুলিশকে খবর দেন এবং স্বপ্না আক্তারকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে সোহেলকে আটক করে পুলিশ।

২০ মে ভোরে আব্দুল হান্নান পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, যে বাসা থেকে ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় তার পাশেই বাদীর বাসা। সকাল সাড়ে ৯ টায় ওই শিশু বাসা থেকে বের হলে তাকে পাশের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। তাকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

Manual5 Ad Code

উল্লেখ্য গত ২০ মে সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

শেয়ার করুন