Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরে দুই পক্ষের ১৮ লাখ সেনা নিহত

admin

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরে দুই পক্ষের ১৮ লাখ সেনা নিহত

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের গত চার বছরে উভয় দেশের সম্মিলিত সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

Manual5 Ad Code

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে দুই দেশের অসংখ্য সেনা নিহত, আহত অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। সিএসআইএস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের আর কোনো একক যুদ্ধে কোনো বৃহৎ শক্তির সেনাবাহিনী এত বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর তুলনায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। মোট ১৮ লাখ হতাহত ও নিখোঁজ সেনার মধ্যে প্রায় ১২ লাখই রাশিয়ার। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে রাশিয়ার ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

বাকিদের বড় একটি অংশ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রুশ বাহিনীর এই নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতিকে আধুনিক সামরিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছে মার্কিন এই থিঙ্কট্যাংক সংস্থাটি।

Manual8 Ad Code

ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে ইউক্রেনের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত চার বছরে ইউক্রেনের অন্তত ৬ লাখ সেনা হতাহত অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনীয় বাহিনীর ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন।

রুশ বাহিনীর তুলনায় ইউক্রেনের নিহতের সংখ্যা কম হলেও দেশটির মোট সামরিক সক্ষমতার বিচারে এই ক্ষতি অপূরণীয়। আকাশপথে হামলা, দীর্ঘমেয়াদি পরিখা যুদ্ধ এবং আধুনিক মারণাস্ত্রের ব্যবহার দুই দেশেরই জনবলকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

সিএসআইএস তাদের এই প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধের ময়দানে যেভাবে সেনাশক্তি ক্ষয় হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে উভয় দেশের জনতাত্ত্বিক ও সামাজিক কাঠামোতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে শ্রমশক্তি ও জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনাসংখ্যা কমে আসায় উভয় দেশ এখন নতুন করে সেনা নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের দিকে আরও বেশি ঝুঁকছে। তবে চার বছর পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধের কোনো নিশ্চিত সমাপ্তি এখনো দৃশ্যমান হচ্ছে না।

Manual7 Ad Code

শেয়ার করুন