Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুরুর আগেই শেষ একসঙ্গে পথচলার স্বপ্ন

admin

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৪:১১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৪:২৪ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
শুরুর আগেই শেষ একসঙ্গে পথচলার স্বপ্ন

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

বাগেরহাটের রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কনেসহ তিনজনের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নে। বিয়ের উৎসবের বাড়িতে একদিন বাদেই শোকের মাতম। আপনজনদের হারিয়ে একদিনে স্বজনদের আহাজারিতে যেমন পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে তেমনি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া। জানা  যায়, একদিন আগেও যে বাড়িতে বাজছিল বিয়ের সানাই, ছিল হাসি-আনন্দ আর উৎসবের আমেজ, মাত্র এক রাতের ব্যবধানে সেই বাড়িতেই এখন বুকফাটা কান্না। বিয়ের সাজে নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল মিতু ও সাব্বিরের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—বিদায়ের গাড়িতেই শেষ হয়ে গেল তাদের পথচলা। একদিনের ব্যবধানে আনন্দের বাড়ি পরিণত হলো শোকের বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন কয়রার মেয়ে মিতু আক্তার ও মোংলার যুবক সাব্বির। সারাদিনের আয়োজন শেষে রাতভর ছিল বিয়ের আনন্দ, আত্মীয়-স্বজনের ভিড় আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। রাতটা কনের বাড়িতেই কাটান বরপক্ষের সবাই। সকালে ছিল বিদায়ের মুহূর্ত। হাসি, কান্না আর নতুন জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে নববধূকে নিয়ে বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় মাইক্রোবাসটি।

Manual3 Ad Code

একই গাড়িতে ছিলেন নববধূ মিতু আক্তার, তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা। পরিবারের সবার মুখে তখনও ছিল বিয়ের আনন্দের রেশ। কিন্তু কেউ জানতো না, সেই যাত্রাই হবে জীবনের শেষ পথচলা। বাগেরহাটের রামপালে পৌঁছাতেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির। মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় গাড়ি—একে একে নিভে যায় ১৪টি তাজা প্রাণ।

Manual4 Ad Code

নিহত নববধু মিতু আক্তার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মিতুর ছোট বোন লামিয়া একই মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত বর আহাদুর রহমান ছাব্বির মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে। আবদুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। এ দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে, মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতি মারা গেছে।

শুক্রবার সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শেহলাবুনিয়ার ছাত্তার লেনের বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষের ভিড়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার খবর শুনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। শোকে স্তব্ধ সবাই। আবদুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছে পরিবারের নিহত চার নারীর মরদেহ। পাশে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাকি পাঁচজনের মরদেহ। পরে জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে মরদেহগুলো দাফন করা হয়।

Manual7 Ad Code

কনে মিতু আকতারের খালা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার বোনের তিন ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে মিতু আকতার, মেজো লামিয়া ও সবার ছোট ইসমাইল। বোনের সঙ্গে তার নতুন শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ছোট ভাই ইসমাইলও বায়না ধরেছিল সেদিন। কিন্তু গাড়িতে জায়গা না হওয়ায় যেতে পারেনি।

Manual4 Ad Code

নিহত আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। তবে গ্রামের বাড়ি কয়রায়। রাজ্জাক ভাই তার মেয়েরও বিয়ে দিয়েছেন কয়রায়। এই ছেলেরও সেখানে বিয়ে দিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে গেল।

শেয়ার করুন