Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে অপহরণ কারী চক্রের রিমান্ড মঞ্জুর

admin

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ০৩:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ০৩:৪২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে অপহরণ কারী চক্রের রিমান্ড মঞ্জুর

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরীতে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের ১০ সদস্যের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১৫ মার্চ) সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক শুনানী শেষে আসামীদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী সাত কার্যদিবসের আসামীদের রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশনা দেন বলে আদালত সূত্র জানায়।সিলেট ট্যুরিজম

এরআগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই মাসুদ আহমেদ সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন।

এরআগে রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামের ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে ১০ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার হাজী বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহিদ আহমদ (৪২) নামের আরেক প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়।

Manual2 Ad Code

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সুহেল সরকার বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অপহরণকারীদের গ্রেফতার করার ধারালো চাকু, কেচি, লোহার রড ও স্টিক উদ্ধার করে। এরআগে ওই বাসায় জিম্মী ছিলেন সুহেল সরকার (২২) নামের আরেক যুবক। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

Manual7 Ad Code

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সিলেটের মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর এলাকার সেলিম আহমদ ও জানাত আরা নাজুর ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), উপশহর বি ব্লকের ১৫ নং রোডের ১৫নং বাসার মো. মোক্তাদির ও রনি বেগমের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার মন্ডলপুর গ্রামের মো. ফয়জুল করিম ও মোছা. শেফা বেগমের ছেলে বর্তমানের নগরীর হাওয়াপাড়া ৫৬নং বাসার বাসিন্দা জুবাইন আহমদ (১৯), জালালাবাদ থানার আমানতপুর গ্রামের আব্দুল মন্নান ও আসমা খানমের ছেলে বর্তমানে নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়া মোহিনী ১০২/৩০নং বাসার বাসিন্দা সুফিয়ান আহমদ (১৯), এয়ারপোর্ট থানার চৌকিদেখী এলাকার ৬৪/১নং বাসার মো. আনোয়ার মিয়া ও রোকেয়া বেগমের ছেলে মো. জাকির হোসেন (১৯), কাজীটুলা বিহঙ্গ-৭০নং বাসার আবুল হোসেন ও শেওলা বেগমের ছেলে মো. মারজান (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার রায়সত্তরপুর গ্রামের মো. সুজন মিয়া ও মোছা. স্বপ্না বেগমের ছেলে বর্তমানের নগরীর হাউজিং এস্টেটের বর্ণী-৪২নং বাসার বাসিন্দা মোসাদ্দেক আলী (১৮). হাওয়াপাড়া দিশামরী ৮১নং বাসার রুমান আহমদ ও মুন্নি আক্তারের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার মো. রতন ও কবিতা খানমের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) হাওয়াপাড়া দিশারী-৪৪নং বাসার মানিক মিয়া ও জোস্না বেগমের ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।

পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকায় থেকে সুহেল সরকার (২২) নামের এক যুবককে ১৪–১৫ জন দুর্বৃত্ত জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাস নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে অপহরণকারীরা ধারালো চাকু ও কেচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তারা তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানান। অভিযানের সময় আসামিদের হেফাজতে থাকা আরেক ভুক্তভোগী প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারদের কাছ থেকে দুই ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত কেচি, চাকু ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

অপরদিকে, অপহরণ মামলায় ফারদিন আহমদ গ্রেফতার হওয়ায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ১৬নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক রুমান আহমদ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরীর কাছে এই অব্যাহতি পত্র প্রদান করেন।

Manual3 Ad Code

এতে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি মনেপ্রাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শ ও নিয়ম লালন করেন। গত ৭ মার্চ এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তার সন্তানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। যদিও তার দাবি, তার সন্তান সম্পূর্ণ নির্দোষ।

তিনি পত্রে আরও উল্লেখ করেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক তা তিনি চান না। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তিনি ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার সন্তান নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তবে ভবিষ্যতে দল যেন তাকে পুনরায় পদে ফেরার বিষয়ে সুবিবেচনা করে।

শেয়ার করুন