Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে প্রশিক্ষিত ছি*ন*তা*ই*কা*রী, দুশ্চিন্তায় পুলিশ

admin

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে প্রশিক্ষিত ছি*ন*তা*ই*কা*রী, দুশ্চিন্তায় পুলিশ

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটের মাঠে এবার প্রশিক্ষিত ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বেড়েছে। এদেরকে নিয়ে রীতিমত উদ্বিগ্ন আর দুশ্চিন্তায় পড়েছে পুলিশ। এরা ছিনতাইকাজে অস্ত্রের ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে পারদর্শী। সেই সাথে ছিনতাইকারী চক্রের রয়েছে বিশাল গ্যাং। তাদের সদস্যদের কাছ থেকে গ্রীন সিগন্যাল পেলেই চক্রের সদস্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। এই গ্যাংয়ের সদস্যদের বিশেষ টার্গেটে রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকে আগত  নারী-পুরুষেরা।সিলেট মহানগর পুলিশ চলছে অপরাধীদের পুরাতন তথ্যের উপর। তাদের কাছে অপরাধীদের আপডেট কোন তথ্য নেই বললেই চলে। আপডেট তথ্য না থাকায় কোন ঘটনা ঘটার পরপরই দৌঁড় শুরু হয় পুলিশের। ইতোমধ্যে সিলেট মহানগর পুলিশ নগরীর কিছু ছিঁচকে ছিনতাইকারীদের ধরলেও প্রশিক্ষিত ছিনতাইকারীরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে।এ পর্যন্ত সিলেটে যে কয়েকটি আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে এর মূল নেপথ্যে রয়েছে নগরীর বাহিরের যুবকরা। যাদের চেহারা সবার কাছে অপরিচিত। তাইতো এদের শনাক্ত করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। সিলেটে এ পর্যন্ত যতটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে তা মোটরসাইকেল দিয়েই। অধিকাংশ ছিনতাইকারী ভূল নম্বর ব্যবহার করে ছিনতাই করতে মাঠে নামে।

সিলেট মহানগর পুলিশে অপরাধ নিয়ে কাজ করা এক কর্মকর্তা জানান, সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে অপরাধীদের আপডেট কোন তথ্য নেই। পুরাতন তথ্য নিয়ে পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ পুলিশ থেকে বাঁচতে অপরাধীরা তাদের অপরাধের ধরণ পাল্টে আরও আপডেট হয়েছে। সেই সাথে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশের নেই কোন শক্তিশালী সোর্স। একই সাথে মহানগর পুলিশের উত্তর ও দক্ষিণে ক্রাইম নিয়ে যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা পদ নিয়ে বসে আসেন তাদেরও নেই কোন সোর্স।

 

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে শীর্ষ মহলে যদি পুলিশের শক্তিশালী সোর্সের নেটওয়ার্ক না থাকে তাহলে কোনদিনই অপরাধীদের ধরা কিংবা শনাক্ত করা সম্ভব নয়।  মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কর্ম তৎপরতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরও অভিযানে নামতে হবে। তবে অপরাধীদের ধরতে সড়কের চেকপোস্ট এতোটা ভূমিকা রাখেনা বলে তিনি মনে করেন।

 

এদিকে, সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় দিনদুপুরে ৩টি মোটরসাইকেল যোগে ছিনতাইয়ে অংশ নেয়া ৬জন যুবককে এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ৮দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। তবে ছিনতাইকারীদের ধরতে না পারা এবং তাদেরকে শনাক্ত করতে না পারায় শাস্তির খড়গ নেমে আসে সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সাবেক) শাহ মোবাশ্বের আলীর উপর।

 

উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয় গত  শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)। মহানগর পুলিশের এত কিছুর পরেও হাউজিং এস্টেটের ঘটনাটি ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যাচ্ছে। অথচ ভয়ঙ্কর এই ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১২ জানুয়ারি সকালে হাইজিং এস্টেট এলাকার ৮ নম্বর লেনে রিকশা থামিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর ব্যাগ ছিনতাই করা হয়। ভুক্তভোগী ওই নারী পশ্চিম পীর মহল্লার বাসিন্দা এবং নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত। কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন। তার ব্যাগে একটি মোবাইল ফোন, নগদ ৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই নয়ন মিয়া সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

 

Manual7 Ad Code

এছাড়া গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে দিনদুপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাত্রী ইয়াসমিন আক্তারের কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারী গ্রুপটি। হাইজিংএস্টেটের ঘটনায় চৌকস ছিনতাইকারীরা ইয়াসমিন আক্তারের টাকা নিলেও আইফোন ও এটিএম কার্ড একটি রেস্টুরেন্টের সামনে রেখে যায় ছিনতাইকারীরা।

 

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, হাউজিং এস্টেটের ভেতরের সড়ক দিয়ে একটি অটোরিকশা যাচ্ছিলো। তিনটি মোটর সাইকেলে এসে ৬ জন লোক ওই অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর একজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে অটিরিকশার ভেতরে থাকা ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। কিছুক্ষণ টানাহ্যাঁচড়ার পর ব্যাগটি নিজের আয়ত্বে নিয়ে মোটর সাইকেল আরোহীরা চলে যায়। এসময় অটোরিকশা থেকে নেমে এক নারীকে চিৎকার করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় ইয়াসমিন আক্তার সাধারণ ডায়রি করেন।

 

ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, কর পরিদর্শক ইয়াছমিন আক্তার অফিস থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। ৬ জন ছিনতাইকারী সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে যায়। যাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মতো ছিলো। ছিনতাইকারীরা টাকা ও স্বাক্ষর করা চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা নিয়ে যায়। তবে, আইফোন ও এটিএম কার্ড তারা পার্শ্ববর্তী জান্নাত রেস্টুরেন্টের সামনে রেখে যায়।

Manual4 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে যাচাই-বাছাই করা হলেও এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এমনকি ওই ছিনতাইকারীরা কেউ পুলিশের তালিকায় পুরনো অপরাধী নয়। ছিনতাইকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

Manual2 Ad Code

শেয়ার করুন