Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৩ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে মূল্যায়ন পাচ্ছেন বিএনপি নেতারা, তালিকায় আছেন যারা

admin

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে মূল্যায়ন পাচ্ছেন বিএনপি নেতারা, তালিকায় আছেন যারা

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি ছিল জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। প্রতিক্রিয়ায় তিনি ছিলেন নিরব, যদিও নেতাকর্মীদের চাপ ছিল। তবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই তিনি প্রচারণায় মাঠে নামেন। মনোনয়ন দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এমএ মালিকের জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সরকার গঠনের পর দল তার সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে।

এভাবেই দলের প্রতি অনুগত এবং প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় আছেন আরও কয়েকজন। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, ত্যাগের পুরস্কার তারাও পাবেন।

মূল্যায়ন হওয়া নেতাদের মধ্যে আছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। অনেক আগে থেকেই তিনি সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ভালোমতোই নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তিনিও নিরব ছিলেন। তবে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই তিনি নির্বাচনী মাঠে নামেন। প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করে ঘরে ফিরেন।

এই ত্যাগের পুরস্কারও পেয়েছেন শামীম। দল তাকে সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে।

এভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে বিএনপির আরেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীকে। মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে  থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি।

এভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। তাকে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে

Manual5 Ad Code

তবে এমন ত্যাগের পুরস্কার পেতে পারেন সিলেটের আরও বেশ কয়েকজন ত্যাগী বিএনপি নেতা।

Manual8 Ad Code

যেমন সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালাম। দীর্ঘদিন প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পান নি। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর নেতাকর্মীরা তার পক্ষে বেশ শো’ডাউনও করেছিলেন। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর তিনিও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে জয় নিশ্চিতে মূল্যবান অবদান রাখেন।

Manual3 Ad Code

 

এ তালিকায় আরও আছেন সিলেট-৬ আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা জেলা বিএনপির উপদেষ্ঠা ফয়সল আহমদ চৌধুরী। সেই থেকে এবারের দলীয় মনোনয়ন পর্যন্ত তিনি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার চষে বেড়িয়েছেন। মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়েও ছিলেন নানান বিচার বিশ্লেষণে। শেষ পর্যন্ত দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তার নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছিল মনোনয়নের সিদ্ধান্ত রিভিউর। তবে শেষ পর্যন্ত তিনিও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন। প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত মাঠেই ছিলেন।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি ছিল গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক ৩বারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরীর। দীর্ঘদিন ধরে গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। বিভিন্নভাবে দলের পক্ষে জনমত গঠনে অবদান রেখেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি দলীয় প্রার্থীকে মেনে নিয়ে তার পক্ষে বিরামহীন কাজ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ধানের শীষ জয় নিশ্চিতে অবদান রেখেছেন।

Manual8 Ad Code

সিলেট-৫ আসনে এককভাবে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তারা জোট প্রার্থী জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কে সমর্থন জানিয়েছে। তবে দলের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে জেলা বিএনপি প্রথম সহ সভাপতি মামুনুর রশীদ-চাকসু মামুন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরাজিত হন। তার আগে বিএনপি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়।

এ আসনে আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি হলেন সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি শেষ পর্যন্ত জোট প্রার্থীর পক্ষে মাঠে ছিলেন।

এছাড়াও সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল আর সিলেট-৬ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ওই আসনের একাধিকবারের সাবেক সাংসদ ও বিএনপি নেতা ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নিজেদের আসনে তারা শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন এবং জয় নিশ্চিতে মূল্যবান অবদান রেখেছেন।

 

ত্যাগী এই নেতৃবৃন্দকেও বিএনপি মূল্যায়ন করবে বলে প্রত্যাশা সাধারণ প্রত্যেকের কর্মী-সমর্থকরা।

শেয়ার করুন