Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ কাটছে না

admin

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ কাটছে না

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ যেন কাটছেই না। এই রুটে রেল লাইনের অবস্থা এতই খারাপ যে, দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে আমদানিকৃত ২০০ হর্স পাওয়ারের মতো শক্তির ইঞ্জিনগুলো চলে না। পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে চলছে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। রেলপথের দৈন্য দশার পাশাপাশি এই রুটের যাত্রীদের টিকিটের সংকট লেগে আছে বছরের পর বছর। সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক পথে দীর্ঘ ভোগান্তির কারণে যাত্রীরা ট্রেনের দিকে বেশি ঝুঁকলেও রেল কর্তৃপক্ষ এ রুটে যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় ২০ ভাগ টিকিটও দিতে পারছে না।

Manual4 Ad Code

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শুধু বগি বাড়িয়ে টিকিট সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়; এজন্য নতুন ট্রেন চালুর বিকল্প নেই। এই রুটে চলাচলরত পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের পাশাপাশি আরও নতুন ট্রেন চালুর জন্য যাত্রীরা দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসলেও একযুগেও নতুন ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি।

Manual8 Ad Code

স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বুকিং সহকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ট্রেনে করে সিলেট যাওয়ার জন্য অনলাইন এবং কাউন্টারে ভিড় করেন। কিন্তু যাত্রীদের চাহিদার ২০ ভাগ টিকিটও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সিলেট রুটের বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক পথের মতো রেলপথের অবস্থাও শোচনীয়। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথের শোচনীয় অবস্থার কারণে ৬–৭ ঘণ্টার গন্তব্যে যেতে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়।

Manual2 Ad Code

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার জানান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত উচ্চগতির ৩০টি ইঞ্জিন চট্টগ্রাম–সিলেট ছাড়া প্রায় রুটে চলে।

Manual5 Ad Code

এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, সড়ক পথে ভোগান্তির কারণে চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে চলাচলরত পাহাড়িকা ও উদয়ন এঙপ্রেস ট্রেনের টিকিটের অনেক চাহিদা। কিন্তু আমরা টিকিট দিতে পারছি না। প্রতিটি ট্রেনে অতিরিক্ত বগি লাগানো হয়। নতুন ট্রেন চালু না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভঙ্গুর দশা ও সড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে যাত্রীরা স্বস্তি পেতে বেছে নিচ্ছেন রেলভ্রমণ। তবে এখানেও ভোগান্তির শেষ নেই। কারণ হিসাবে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে প্রতিদিন পাহাড়িকা ও উদয়ন এঙপ্রেস নামে এক জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এই এক জোড়া ট্রেনে ১৪শ’ যাত্রী আসা–যাওয়া করা যায়। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সিলেট এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রামে প্রতিদিন ট্রেনে করে ভ্রমণের জন্য টিকিটের চাহিদা থাকে ৩ থেকে ৪ হাজারের বেশি। তাই প্রতিদিন এই রুটের যাত্রীরা টিকিটের জন্য কাউন্টারে এবং অনলাইনে ভিড় করেন।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইন সংস্কার করা হয়েছে বেশিদিন হয়নি। সংস্কারের জন্য বিপুল অর্থের বিন্দুমাত্রও খরচ হয়নি। পুরো টাকাই লোপাট হয়েছে বলে তখন সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। যদি সংস্কার করা হতো তাহলে দুই–তিন বছরের মধ্যে এই লাইনের অবস্থা এত খারাপ হতো না। চট্টগ্রাম থেকে একটি ট্রেন পৌঁছতে অনেক সময় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগে।

শেয়ার করুন