Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট বিভাগের যে আসনে ৫৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল বিএনপি

admin

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:১৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:১৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেট বিভাগের যে আসনে ৫৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল বিএনপি

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে ৫৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন।

Manual1 Ad Code

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটসহ বিএনপি প্রার্থী মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। ফলে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী জয়ী হন। সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ব্যবধানের বিজয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকায় দলমত নির্বিশেষে বহু ভোটার ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। অনেকের ভাষ্য, ‘দল নয়—মানুষ দেখে ভোট দিয়েছি।’

Manual7 Ad Code

ভোটারদের মতে, হাজী মুজিবের দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সামাজিক সংকটে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা ভোটের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হাজী মুজিব ২০০১ সাল থেকে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। অতীতে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের সাতবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা দুই উপজেলায় সমন্বিতভাবে জোরালো প্রচারণা চালান, যা ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ আসনে মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা রয়েছে। নির্বাচনে ২ হাজার ৫০০ পোস্টালসহ মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন। মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুই উপজেলায় বাতিলসহ মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯৪টি, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৫৫ শতাংশ।

ভোটাররা জানান, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, বিএনপির সুসংগঠিত কর্মীবাহিনীর টানা মাঠপর্যায়ের কাজ এবং বিএনপি ঘোষিত ৯ দফা নাগরিক সুবিধা কর্মসূচি—বিশেষ করে কৃষি সহায়তা ও ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক প্রতিশ্রুতির প্রচার—এই বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিখাতের আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন