Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-৬ : ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস

admin

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেট-৬ : ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual1 Ad Code

নির্বাচনে সিলেটের যে কটি আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে সিলেট-৬ একটি। প্রচার-প্রচারণা আর কথার লড়াইয়েও এগিয়ে রয়েছে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। সবমিলিয়ে সিলেট-৬ আসনে জমে ওঠেছে ভোটের লড়াই।

Manual6 Ad Code

এই আসনে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট পাঁচ প্রার্থী। তবে প্রচারে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে মাঠে থাকা হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামি বাংলাদেশ সমর্থীত প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলামও। ভোটের মাঠে নবাগত এই প্রার্থী ইতিমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন। ফলে এ আসনে ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

এবারের নির্বাচনে বিয়ানীবাজার এবং গোলাপগঞ্জ দুই উপজেলায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ বড় একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এবার নির্বাচনেও অংশ নিতে পারছে না দলটি। ভোটের মাঠে এখনো আলোচনায় আওয়ামী লীগ। তাই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসন থেকে যিনি আওয়ামী লীগের ভোট বাগিয়ে নিতে পারবেন তিনি এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের দিকে নজর সবার।

Manual1 Ad Code

অপরদিকে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল এখনো তাকিয়ে আছেন দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশের দিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সমর্থক বলেন, নৌকা প্রতীক না থাকায় আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই দলটির। আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় তারা ভোট দিতে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের সমর্থক অনেকের মধ্যে এখনো গ্রেপ্তার আতঙ্কও রয়েছে। তারা বলেন, ভোটে যাওয়া না যাওয়া সব নির্ধারণ হবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ওপর।উল্লেখ্য সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি দুইবার ও ধানের শীষ একবার এবং দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী এছাড়া বাকী সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এখানে বিজয়ী হয়েছিল। এই আসনে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে জামায়াত কয়েকবার অংশ নিলেও তেমন কোন সুবিধা করতে পারেনি। তবে এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে জামায়াত এখানে বিএনপির শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। এছাড়া জমিয়তের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন অন্যান্য দল গুলোর জন্য।এই আসনে লড়াই হবে মুলত ত্রিমুখী। বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামি বাংলাদেশ এর সমর্থীত প্রার্থী মাওলানা হাফিজ ফখরুল ইসলাম এর মধ্যে মুলত প্রতিদ্বন্দ্বিত হবে।অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান ও জাতীয় পার্টির আব্দুন নূর ভোটারদের মধ্যে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি।

Manual4 Ad Code

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা নির্দিষ্ট কোন দলের সমর্থকদের কাছে যাচ্ছি না। বিয়ানীবাজার এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা জানতে চাচ্ছি এবং ভোট প্রার্থনা করছি। আমি মনে করি শুধু জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিয়ে একা দেশ গড়া সম্ভব নয়। দেশের সব নাগরিকদের নিয়ে একটি সুশৃংখল দেশ করতে চাই। প্রতিটি ভোটার আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুতরাং আমরা তাদের কাছে যাচ্ছি এবং তাদের সমর্থন নিয়েই নির্বাচিত হয়ে তাদের দূর্ভোগ লাগব করার পাশাপাশি তাদের প্রত্যাশা পূরনের জন্য কাজ করবো।বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট। কিন্তু দেশ গড়তে হলে শুধু আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি চিন্তা করলে হবে না, প্রতিটি নাগরিক গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাচ্ছি। জনগণ আমাকে সাড়া দিচ্ছে, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে চায়। আমি নির্বাচিত হলে সেবক হয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।জমিয়তে উলামায়ে ইসলামি বাংলাদেশ এর সমর্থীত প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর থেকে আমি বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জবাসীর সুখ-দুঃখে সঙ্গে আছি। তাদের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা গুলো শুনেছি এবং নিজের ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমি নির্বাচিত হই কিংবা না হই দুই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে সবসময় থাকবো। তিনি আরো বলেন, প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে প্রতিদ্বন্দ্বী কর্মীসমর্থকদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। আমাদের কর্মীসমর্থকরা শান্তভাবে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমরা জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।

শেয়ার করুন