Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এগিয়ে ধানের শীষ, লড়াইয়ে তালা

admin

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এগিয়ে ধানের শীষ, লড়াইয়ে তালা

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা সমাপ্ত হয়েছে। রাত পোহালেই ভোট। কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত।

বুধবার প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা  নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছে গেছেন ভোট কেন্দ্র গুলোতে।প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ ৩ জগন্নাথপুর -শান্তিগন্জ্ঞ আসনে এবার ৭জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে লড়ছেন তারমধ্যে একজন প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মুশতাক আহমদ সাংবাদিক সন্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ব্যালটে সাত প্রতীক থাকলেও মুলত ভোটযুদ্ধে ৬জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে শেষ লড়াইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে অনেকটা এগিয়ে আছেন। তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে  বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে আলোচনায় রয়েছেন। এ আসনে  ১০ দলীয় জোটের দুই প্রার্থী দলবদলসহ নানা সংকটে পড়ে মুল লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছেন বলে মনে করছেন সচেতন ভোটাররা।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র  ও জগন্নাথপুর – শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলা। এ উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১০হাজার ৬২৯ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮হাজার ২৮৩ জন। অপরদিকে আটটি ইউনিয়ন নিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা গঠিত। সেখানে  পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার ৬১৪ জন ও মহিলা ভোটার ৭৫ হাজার ৪৮৪ জন।ভিআইপি আসন হিসাবে পরিচিত ইতি পূর্বে এ আসন থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে একাধিক বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও তার ছোট ভাই ফারুক রশীদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ থেকে ২৪ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে এম এ মান্নান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারা সকলেই এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

Manual5 Ad Code

২০০৫ সালে আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর শুন্য ঘোষিত উপ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা শাহীনুুর পাশা চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে শামসুল আবেদীন  ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি  নির্বাচনে  গুলজার আহমেদ  ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে  সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকার উন্নয়নে তারা ও আন্তরিক ছিলেন।

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের দলীয় প্রার্থী এবার এ আসনে না থাকায় ভোটের সমীকরণ অনেকটা বদলে গেছে। দলগুলোর ভোট টানার ওপর জয় পরাজয় অনেকটা নির্ভর করছে। সার্বিক জনমত পর্যালোচনায় ভোটারদের সাথে আলাপ করে আভাষ পাওয়া গেছে মুল লড়াই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ধানের শীষ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (বহিস্কার) ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেনের তালা প্রতীকের মধ্যে হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন। কারণ ১০ দলীয় জোটের একক কোন প্রার্থী না থাকায় ধুম্রজাল দেখা দিয়েছে।

১০ দলীয় জোট ভোটের লড়াই থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এ জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী রিকশা প্রতীকে লড়ছেন। অপরদিকে আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ঈগল পাখি প্রতীকে লড়ছেন। তারা দুইজনই মূল লড়াইয়ে ফিরে আসার প্রানান্তকর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এ জোটের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে কাউকে সমর্থন না দিয়ে  ভোট থেকে দূরে রয়েছেন।

Manual5 Ad Code

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ইসলামির নির্বাচনে না থাকায় তাদের  ভোট টানতে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কয়ছর আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন। এ প্রতিযোগিতায় বিএনপি প্রার্থী অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ,সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন, বিএনপির বিশাল কর্মীবাহিনীর সাংগঠনিক সমর্থন. জাতীয় পার্টি ও আল ইসলাহর আনুষ্ঠানিক সমর্থন এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের অংশ গ্রহণে ধানের শীষের প্রার্থী কয়ছর আহমেদের পাল্লা অনেকটা ভারি করে দিয়েছে। এছাড়াও বিএনপির সঙ্গে এবার জোটে রয়েছে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম।
এ আসনে তাদেরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট রয়েছে। অন্যদিকে দির্ঘদিন পর বিএনপি নিজ দল থেকে প্রার্থী দেওয়ায় নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত। কয়ছর আহমদের বাড়ী জগন্নাথপুরে। সেখানে আঞ্চলিকতার একটি টান ও লক্ষনীয় বিষয়। সবকিছু মিলিয়ে সর্বশেষ বিশ্লেষণে ধানের শীষ অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

অপরদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী  আনোয়ার হোসেন শান্তিগঞ্জের আঞ্চলিকতা তৈরি করে ধানের শীষকে টপকাতে চেষ্টা করছেন। তার সাথে  বিএনপির একটি বহিস্কৃত  অংশ রয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের সমর্থন রয়েছে বলে প্রচারনা করা হয়।

সর্বশেষ প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীর জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার নির্বাচনী শেষ জনসভায় জনস্রোত কয়ছর আহমেদ কে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। তারপরও শেষ চেষ্টা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে।

Manual8 Ad Code

অপরদিকে ১০ দলীয় জোটের দুই প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী ও সৈয়দ তালহা আলম মুল লড়াইয়ে ফিরতে চেষ্টা করছেন। নির্বাচনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুশতাক আহমেদ দেয়ালঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ ফুটবল প্রতীক ও অ্যাডভোকেট মাহফুজুল খালেদ তুষার টেবিল ঘড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ কয়ছর আহমদ  বলেন, জগন্নাথপুর ও শান্তিগন্জ্ঞ বাসীর ভালবাসা পেয়ে আমি ধন্য। ইনশাআল্লাহ আমাদের বিজয় হবে।

১০ দলীয় জোটের রিকশা প্রতিকের প্রার্থী শাহিনূর পাশা জানান, গণসংযোগে আমি মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করছি। এবি পার্টির তালহা আলম বলেন, আমরা জয়ের লক্ষ্যে কাজ করছি।

বিএনপির বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেছেন, তালার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগন এবার চমক দেখাবে।

Manual4 Ad Code

শেয়ার করুন