Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল

admin

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। এগুলো বাতিল করার বিরুদ্ধে ছিল বিরোধী দল।

Manual5 Ad Code

আজ বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।

এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে। এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের আর কোনো আইন থাকছে না। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২৫ জন বিচারকের নিয়োগসহ যেসব ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলে গণ্য হবে।

আর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও এর সংশোধনী অধ্যাদেশ) বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই অধ্যাদেশের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি আগে যে আইনে পরিচালিত হতো, আবার সে আইনের অধীনে ন্যস্ত ও পরিচালিত হবে।

Manual1 Ad Code

সংসদে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতি সই করলে তা আইনে পরিণত হয়। এরপর সরকার গেজেট জারি করে।

আজ অধ্যাদেশ দুটি বাতিল করতে আনা বিল পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের এই উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। আবারও আগের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অধিকতর যাচাই–বাছাই করে পরে এ–সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।

Manual2 Ad Code

বিচার বিভাগে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল

বিদ্যমান সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারক নিয়োগ দেবেন। কিন্তু ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য কাজ করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।

সংবিধানে বিচারক হওয়ার অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে বা অন্তত ১০ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে না থাকলে অথবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না।

অতীতে কোনো সরকার বিচারক নিয়োগের আইন করেনি। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিচার বিভাগে রাজনীতিকীকরণের অভিযোগও ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ করে। তাতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে।

Manual8 Ad Code

আজ জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ পাস হওয়ায় এই বিধান আর থাকছে না। আগের মতো সংবিধানে থাকা বিধান অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছিল, অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।

আজ সংসদে অধ্যাদেশগুলো রহিত করে বিল পাস হওয়ায় এসব বিধান আর কার্যকর থাকছে না।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিলে বিতর্ক

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আজ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল সংসদে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করলে তাতে আপত্তি জানান বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।

শেয়ার করুন