Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬৮ আসনে এককভাবে লড়বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

admin

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৬:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৬:১৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
২৬৮ আসনে এককভাবে লড়বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual7 Ad Code

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে না গিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৬৮ আসনে এককভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জোট থেকে সরে আসার কারণ হিসেবে দলটি ‘ইনসাফের দিক থেকে বঞ্চিত হওয়া’ এবং ‘ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার’ অভিযোগ তুলেছে।শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে পুরানা পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি জানান, দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)–এর নির্দেশেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, “সারা দেশের ২৭০টি আসনের মধ্যে আমাদের ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। সেই ২৬৮ আসনেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। আমরা ইসলামপন্থি শক্তির সব ভোট এক বাক্সে ফেলতে চাই।”

Manual7 Ad Code

জোট ছাড়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামের আমির আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলেছেন। এর ফলে আমাদের মধ্যে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে—এই নির্বাচন পাঁতানো হবে কি না।”

Manual1 Ad Code

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বর্তমানে আপিল নিষ্পত্তির ধাপে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে গঠিত ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’–এর সূচনা হয়েছিল ধর্মভিত্তিক আট দলের যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে ওই আন্দোলন শুরু হয়।

শুরুতে এই মোর্চায় ছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

পরবর্তীতে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি এবং পরে এবি পার্টি জোটে যোগ দেয়। তবে এনসিপির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন ও কয়েকটি দলের আপত্তির কারণে জামায়াতের সঙ্গে দলটির দূরত্ব বাড়তে থাকে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ইসলামী আন্দোলন। দলটির দাবি ছিল দেড় শতাধিক আসন। প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে অংশ নেয়নি তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের আটটি দলের আসন বণ্টনের তালিকা ঘোষণা করলেও সেখানে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। জামায়াত আশা করছিল শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন জোটে থাকবে এবং সে কারণে ৪৭টি আসনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা আগামী নির্বাচনে ইসলামপন্থি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল।

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন