Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাগামহীন

admin

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪ | ১২:১০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৪ | ১২:১০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাগামহীন

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে হঠাৎ করে পেঁয়াজের প্রতি কেজি ১০০ টাকা দাম বাড়িয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সিন্ডিকেট চক্র সিলেটে কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি দাম বাড়িয়েছে মসলা বাজারে।

Manual6 Ad Code

এক কেজি আলু কিনতে ক্রেতাকে ব্যয় করতে হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা। যা কিছু দিন আগেও ৪৫ টাকা ছিল। এছাড়া ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা বেড়ে ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি সব ধরনের সবজির দামও। ফলে এমন পিরিস্থিতিতে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতার নাভিশ্বাস বাড়ছে। সিলেটের একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সেখানে নিত্যপণ্যের মধ্যে ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনো মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি কেনার জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের উৎসে কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও এ সবের দাম কমবে।

Manual2 Ad Code

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন বাজেটে এসব পণ্যের উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যে কারণে বাজারে বাজেটের কোনো ইতিবাচক প্রভাব এখন দেখা যাবে না। এর জন্য ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হবে।

Manual2 Ad Code

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলে সেটা সঙ্গে-সঙ্গে কার্যকর হয়। যেমন সিগারেটসহ অনেক পণ্যই সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতারা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। কিন্তু কমানোর প্রস্তাব করা হলে বাজেট পাশের অজুহাত দেখায়।

খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি ডজন (১২ পিস) ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৫ টাকা। এক হালি (৪ পিস) বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। আর প্রতি পিস কিনতে ক্রেতার ১৪ টাকা গুনতে হচ্ছে। যা গত বছর একই সময়ে ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বন্দরবাজারে ডিম কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন বলেন, ডিম নিয়ে বিক্রেতাদের কারসাজির কোনো শেষ নেই। এক পিস ডিম কিনতে ১৪ টাকা গুনতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে ডিমের সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। বিক্রেতা তাদের ইচ্ছা মতো ডিমের দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছেন। আর এসব দেখার জন্য সরকারের যেসব সংস্থা রয়েছে, তারাও কিছু করছে না। একই বাজারের ডিম বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে ডিমের দাম বাড়তি। তারা বিভিন্ন জায়গায় ডিম মজুত করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা হাতে নাতে ধরেছে। তারপরও কিছুই করতে পারছে না। সেই চক্রের সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনা গেলে ডিমের দাম কমে যাবে।

এদিকে ভারত রপ্তানি শুরু করলেও সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকা। যা ৭ দিন আগেও ৭০-৭৫ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতি কেজি আলু কিনতে ক্রেতার ৬০-৬৫ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। যা কিছু দিন আগেও ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০-৪০০০ টাকায়। যা গত বছর একই সময়ে ১৬০০-২৮০০ টাকা ছিল। বাজারে দেশি রসুনের কেজি ২০০-২২০ টাকা। যা আগে ১৩০-১৫০ টাকা ছিল। বাজারে প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা। যা গত বছর একই সময় ৩৮০-৪০০ টাকা ছিল। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৩১০-৪০০ টাকা, যা ছিল ২৩০-২৮০ টাকা। প্রতি কেজি দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। যা গত বছর কুরবানির ঈদের আগে ছিল ৪৫০-৫২০ টাকা। লবঙ্গ ১৬৫০ থেকে ১৮০০ টাকা, যা গত বছর একই সময় ছিল ১৫০০-১৬০০ টাকা।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। গাজর ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, যা এক দিন আগেও ৪০ টাকা ছিল। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, যা ৭ দিন আগে ছিল ৫০ টাকা। এছাড়া বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা।

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন