Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন হাসিনা, অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করল বিবিসি

admin

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ | ১২:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৫ | ১২:১৭ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন হাসিনা, অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করল বিবিসি

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার ও নির্বিচারে গুলি চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমনটাই উঠে এসেছে তার একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপে। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে বিবিসি আই।

Manual6 Ad Code

গত মার্চে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই অডিও রেকর্ডিংয়ে হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, গত ১৮ জুলাই তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের’ নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘যেখানেই পাবে, গুলি করবে’।

এই ফোনালাপটি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে অনলাইনে ফাঁস হয় এবং পরে তা যাচাই করে বিবিসি ও বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তদন্তকারীরা বলছেন, এই রেকর্ডিং-ই এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ, যা তাকে সরাসরি গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তুলে ধরে।

ইতোমধ্যেই এই রেকর্ডিংকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারকার্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

১৮ জুলাই ২০২৪ সালে ঢাকা গণভবনে অবস্থানকালে একজন অজ্ঞাত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপটি হয় বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি।

সেই সময়টিতে রাজধানীজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছিল এবং পুলিশ বাহিনীর হাতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছিল।

ফোনালাপে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যারা যাবে, lethal weapon (প্রাণঘাতী অস্ত্র) নিয়ে যাবে। যেখানেই পাবে, shoot (গুলি) করবে।’

অডিও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ারশট’ এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, এতে কোনো ধরনের সম্পাদনা বা কৃত্রিমতা পাওয়া যায়নি এবং এটি খুব সম্ভবত কোনো কক্ষে ফোনালাপটি স্পিকারে চালিয়ে রেকর্ড করা হয়েছিল।

Manual7 Ad Code

ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘এই রেকর্ডিংগুলো শেখ হাসিনার ভূমিকা প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিষ্কার, নির্ভরযোগ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন।

Manual8 Ad Code

বিপরীতে আওয়ামী লীগ দলীয় এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘বিবিসি যে রেকর্ডিংয়ের কথা বলছে, তার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এমনকি যদি তা সত্যিও হয়, সেটি ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একটি বৈধ প্রচেষ্টা।’

দলটি দাবি করেছে, ‘আমাদের নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন হত্যা নির্দেশ দেননি। সরকারি সিদ্ধান্তগুলো ছিল অনুপাতিক, সৎ ও জানমালের ক্ষতি রোধে নেওয়া পদক্ষেপ।’

বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই-আগস্টের ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০ জন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ মুখপাত্র বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে কিছু সদস্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে জড়িয়ে পড়েছিল। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে।’

শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে গত মাসে। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যার নির্দেশ, বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও উসকানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। আন্তর্জাতিক আইনজীবী ক্যাডম্যানের মতে, হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম।

আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী বা দলের কোনো ঊর্ধ্বতন নেতাই বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেননি।’ দলটি জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবিসি সেনাবাহিনীর কাছে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ জানালেও কোনো সাড়া মেলেনি।

শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ এখন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে রয়েছে, যার নেতৃত্বে আছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

শেয়ার করুন