Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অংশগ্রহণমূলক-বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা

admin

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ১২:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ১২:০১ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
অংশগ্রহণমূলক-বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
অন্তর্বর্তীসরকার অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, একটি অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর চারপাশে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য কাজ করছি।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সুপারিশ বাস্তবায়নে জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual5 Ad Code

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট; এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে, মর্যাদায়, স্বাধীনতায় ও গর্বের সঙ্গে বসবাস করতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সংস্কার কর্মসূচির পাশাপাশি আমরা যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমার আবেদন হচ্ছে, আমাদের জাতির মাঝে এমন কিছু রয়ে গেছে, সেটার যত শাস্তি দিই, যত কিছু দিই, ওটার বীজগুলো আমাদের মধ্যে থেকে যাবে। এই বীজ থেকে আমরা কীভাবে মুক্তি পাই, এটাই আজকের জানার বিষয়, আমাদের চ্যালেঞ্জের বিষয়।’

‘এটা কয়েকটা কাগজের সংস্কার না, এটা মনের গভীরতর জায়গার সংস্কার। মানুষ হিসেবে আমাদের নিজেদের কাছে পরিচিত করা দরকার। মানুষ হিসেবে আমরা কী কী চাই, তা করা দরকার।

তার মতে, ন্যায়বিচার কেবল শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ‘ন্যায়বিচার মানে হলো—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যেন আর কখনো জনগণের বিরুদ্ধে দমন, নিপীড়ন বা ধ্বংসের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত না হয়’- বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা অংশ নেন।

প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) একটি স্বাধীন তথ্য-উপাত্ত অনুসন্ধান মিশন জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর ঘটনাবলির তদন্ত করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য, সুপারিশ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় করণীয় তুলে ধরা হয়।

Manual4 Ad Code

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমি জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাই—আমাদের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা জাতিসংঘের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, এটি ছিল এমন এক মুহূর্ত, যখন হাজার হাজার নারী-পুরুষ—যাদের অধিকাংশই তরুণ—নির্মমতা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশের মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধার করে। তাদের সাহস শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, মানবতার পক্ষেও এক অমোঘ বার্তা ছিল।

ড. ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট এবং ২০২৪ সালের অন্ধকার সময় পর্যন্ত জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ সব মানুষের—ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অবস্থান নির্বিশেষে অপরিহার্য অধিকার নিশ্চিত করতে যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটি বাংলাদেশের সংবিধানে গভীরভাবে প্রোথিত।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে এ অধিকারগুলো বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল হয়ে গেছে, স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে, সহিংসতা হয়ে উঠেছে শাসনের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু গত জুলাইয়ে জনগণ একযোগে এ বাস্তবতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সত্য উদ্ঘাটন শুধু ন্যায়বিচারের জন্য নয়, বরং সামাজিক নিরাময়ের জন্যও অপরিহার্য।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাত্র কয়েক সপ্তাহে আনুমানিক ১,৪০০ মানুষ নিহত হন। এ সহিংসতাকে পূর্বপরিকল্পিত, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এবং রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংঘটিত বলে উল্লেখ করা হয়। এতে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনকে সমর্থন করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশেষ করে বিবিসি ও আল-জাজিরা তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য তুলে ধরে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ শুধু অপরাধ নথিবদ্ধ করেনি, বরং তারা এমন একটি সুসংগঠিত সুপারিশমালা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, আমরা এ সুপারিশগুলোকে শুধু বাইরের চাপ হিসেবে নয়, নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছি।

সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দণ্ডবিধি সংশোধন করেছি এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দিয়েছি। এ মাসের শুরুতে ওএইচসিএইচআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছি, যার মাধ্যমে ঢাকায় একটি সহযোগী মিশন স্থাপন করা হবে।

এ মিশন রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে তার অকুণ্ঠ সমর্থন ও গত মার্চে বাংলাদেশ সফরের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার ফলকার টুর্ক, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিমের সদস্য, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইস এবং সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

শেয়ার করুন