স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে নিজের বাসার ছাদ থেকে লাশ উদ্ধার করা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আসাদকে পাঁচদিনের রিমাণ্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা।
শনিবার (১ নভেম্বর) মামলাটি দায়ের এবং রিমাণ্ড আবেদন করা হয়। পরবর্তী তারিখে এ ব্যাপারে শুনানী হবে।
শুক্রবার সকালে দক্ষিণ সুরমার তেলিরাইয়ে নিজের বাসার ছাদে হাঁটাহাটি করতে যান আব্দুর রাজ্জাক। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার রক্তাক্ত লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন পরিবারের সদস্যরা। তারা গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ছেলে আসাদ আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। তারা মামলা করতে অস্বীকার করলে পুলিশ বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে আসাদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমাণ্ডে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। আসাদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী তারিখে রিমাণ্ড আবেদনের শুনানী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশের ধারণা, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আসাদকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
তবে ঘটনাস্থলের আলামত ও শারীরিক আঘাতের চিহ্ন বিবেচনায় এটি যে একটি হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়টি পুলিশের কাছে স্পষ্ট। তার বুক পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা গেছে।
শুক্রবার রাতেই সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, আব্দুর রাজ্জাক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি প্রয়াত মৌলুল হোসেনের ছেলে। মামলায় আসাদ ছাড়াও পরিবারের আরও দুই সদস্যকে আসামী করা হয়েছে।