Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন : চিকিৎসকদলের প্রধান

admin

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:২৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন : চিকিৎসকদলের প্রধান

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual6 Ad Code

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী।

 

 

Manual3 Ad Code

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় তিনি এ দাবি জানান।

Manual8 Ad Code

ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিগত ২৭.৪.২০২১ তারিখ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হবার পর আমরা বর্তমান মেডিকেল বোর্ড উনার (বেগম খালেদা জিয়া) চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমাদের তত্ত্বাবধানে ভর্তির সাথে সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সাথে দেখতে পাই যে, ম্যাডাম লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ছাড়পত্রে ওনাকে মেথোরেক্সেট নামের একটি ট্যাবলেট আর্থাইটিসের জন্য নিয়মিত খাবার নির্দেশ দেওয়া আছে এবং ওনাকে ভর্তি থাকা অবস্থায় খাওয়ানো হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক এই ওষুধটি খাওয়ানো বন্ধ করি।’

 

 

তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রিউমাটলজিস্টদের পরামর্শে এই ওষুধটি উনি খাচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি ওনার এমএএফএলডি ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ছিল। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ম্যাডামের লিভারের অসুখ নির্ণয় করা খুবই সহজ একটি কাজ ছিল, এর জন্য বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই। মেথোট্রেক্সেট খাওয়ালে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশনের কয়েকটা উপাদান পরীক্ষা করে দেখতে হয় এবং অস্বাভাবিক হলে ওষুধ বন্ধ করে ন্যূনতম পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা দেখতে হয়।’

এ চিকিৎসক বলেন, ‘অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ম্যাডামের লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ দেখার পরও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকরা একটা আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং এমটিএক্সও বন্ধ করেননি। তৎকালীন চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবে ম্যাডাম ওখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে রাজি হননি, কিন্তু অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে ওনার আস্থাভাজন চিকিৎসক দিয়ে বেড সাইডে পয়েন্ট অব কেয়ার আল্ট্রাসাউন্ড (পিওসিইউএস) সহজেই করা যেত। নিদেনপক্ষে এমটিএক্স বন্ধ করে দেওয়া ছিল অবশ্য কর্তব্য।’

 

 

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের প্রধান বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করেন ম্যাডামকে কি স্লো পয়োজন করা হয়েছে? আমার উত্তর হচ্ছে, মেথোট্রেক্সেট ওয়াজ দ্য ড্রাগ দ্যাট অ্যাক্সিলারেটেড হার ফ্যাটি লিভার। ইন দ্যাট কনটেক্সট ইট অ্যাক্টেড লাইক স্লো পয়জন অব হার লিভার (মেথোট্রেক্সেট ছিল সেই ওষুধ, যা তার ফ্যাটি লিভার রোগকে লিভারের সিরোসিসে ত্বরান্বিত করে। সেই প্রেক্ষাপটে এটি তার লিভারের জন্য ধীর বিষের মতো কাজ করেছিল)।’

 

 

ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ দেশের লক্ষকোটি মানুষের বুকের ভেতর একটা আফসোস, সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের ভোটাধিকারের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা মানুষটি যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন! যদি দেখতে পেতেন মানুষ নির্ভয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে!’

 

 

এ চিকিৎসক বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা, লিভার ফাংশন দ্রুত অবনতি ওনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটা উইলফুল নেগলিনেন্স বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা উনাকে হত্যা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

 

 

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এছাড়াও উনার ডায়াবেটিস ও আথ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিকেল বোর্ডের কাছে আছে। এই বিষয়ে আইনগতভাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে ম্যাডামের চিকিৎসাজনিত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন-

 

 

ক. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা ম্যাডামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন? দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কি না?

 

 

খ. ভর্তিকালীন কোন কোন চিকিৎসক ওনার চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না?

 

 

গ. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা চলাকালীন ম্যাডাম আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কি কারণে সেটি হয়নি বা কারা বাধা দিয়েছিল?’

 

Manual8 Ad Code

 

এ চিকিৎসক আরও বলেন, ‘উল্লেখ করা দরকার, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ম্যাডামের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএমইউর সব ডকুমেন্ট আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ম্যাডামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করি। আমরা জানি, জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড।’

শেয়ার করুন