Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাচ্চা ঘুমের মধ্যেও বলে উঠছে, মুখ সিলি করে দিও না’

admin

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
‘বাচ্চা ঘুমের মধ্যেও বলে উঠছে, মুখ সিলি করে দিও না’

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর পল্টনে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দুই জন শিক্ষক এক শিশু শিক্ষার্থীকে অফিস রুমে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন করতে দেখা যায়। অভিযুক্ত ঐ দুই শিক্ষককে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির পাশাপাশি স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠেছে।স্কুলে নির্যাতনের শিকার চার বছর বয়সি শিশুটির মা বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টন থানা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাচ্চা এখনো ট্রমার মধ্যে। ঘুমের মধ্যেও চিৎকার করে বলে উঠছে, “মুখ সিলি (সেলাই) করে দিও না।” আবার বলছে, “স্কুলে আর যাব না।” আমরা (বাবা-মা) স্কুলে পাঠিয়ে দিই কি না সেই ভয়ে আমাদের সঙ্গেও থাকতে চাইছে না। নানা বাড়ি চলে গেছে।’

Manual5 Ad Code

মা তখন সন্তান নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় মামলা করে বের হয়েছিলেন। শিশুটির বাবা জানান, স্কুলে প্রি প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তার ছেলে এমন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলো। নির্যাতনের ভিডিও দেখে তারা হতভম্ব। ছেলে বারবার বলছিল, ‘আংকেল বলেছে, বাসায় বললে গলায় পারা দেবে। মুখ সিলি (সেলাই) করে দেবে।’ ঘটনাটি গত ১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টন এলাকার মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমি নামে একটি স্কুলে ঘটেছে। স্কুলের অফিস কক্ষে শিশু নির্যাতনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এখন ভাইরাল। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি অফিস কক্ষে স্কুলের পোশাক পরা একটি শিশুকে নিয়ে ঢুকলেন এক নারী। শিশুটিকে প্রথমে ঐ নারী চড় দিলেন। এরপর শিশুটির ওপর চড়াও হলেন আগে থেকেই অফিস কক্ষে থাকা এক পুরুষ। ঐ পুরুষ কখনো শিশুটির গলা চেপে ধরছিলেন, কখনো মুখ চেপে ধরছিলেন।

হাতে স্টেপলার ছিল। শিশুটি কখনো কাঁদছিল, কখনো অস্থিরতা প্রকাশ করছিল। ঐ নারী হাত ধরে তাকে আটকে রাখছিল। একপর্যায়ে শিশুটি ঐ নারীর শাড়িতে থুতু ফেললে পুরুষটি শিশুটির মাথা শাড়িতে থুতু ফেলার জায়গায় ঠেসে ধরেন এবং সেই অবস্থায় কয়েক বার শিশুর মাথায় ঝাঁকি দেন। ভিডিও ফুটেজে থাকা নারীটি শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি হলেন স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার। পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্বামী-স্ত্রী।

Manual2 Ad Code

গতকাল সকালে স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেটি বন্ধ। তবে বেশ কয়েক জন অভিভাবক সেখানে ছিলেন। তারা এসেছেন খোঁজ নিতে। তারা জানান, স্কুলের ভেতর শিশু নির্যাতনের ভিডিও দেখে তারা ভীত ও ক্ষুব্ধ। গলির ভেতর একটি তিন তলা বাড়ির নিচ তলার কয়েক কক্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলটি পরিচালিত হয়। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ কামরুল হক ইত্তেফাককে জানান, স্কুলটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে দুই জনকে আসামি করে শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা করেন।

Manual2 Ad Code

ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মতিঝিল জোন) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির বাবা-মা নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ নিয়ে ঘটনার পরদিন ১৯ জানুয়ারি থানায় এসে অভিযোগ জানান। পুলিশের একটি দল স্কুল পরিদর্শন করে সেদিনই। মামলায় আসামি করা হয়েছে শারমিন জাহান ও পবিত্র কুমারকে। তারা এখন পলাতক।

Manual3 Ad Code

বাসায় ফিরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে: থানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে শিশুটির বাবা-মা জানিয়েছিলেন, তাদের ছেলে খুব চঞ্চল প্রকৃতির ও জেদি। সাধারণত শিশুটির বাবা ছুটির সময় আনতে যান। ঐ দিন তিনি (মা) গিয়েছিলেন। ছেলের কাপড় কোঁচকানো, একটি জুতা খোলা, চুল এলোমেলো ছিল। ছেলেকে খুব বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল। ছেলে নিশ্চয় বড় কোনো দুষ্টুমি করেছে ভেবে তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছে খোঁজ করতে যান। তখন শিক্ষক বলেন, তার ছেলে শিক্ষকের গায়ে লাথি দিয়েছে, থুতু দিয়েছে। এ জন্য তিনি হালকা করে চড় দিয়েছেন।অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ: সকালে স্কুলের সামনে অনেক অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। সোনিয়া শারমিন নামে এক অভিভাবক ঘটনা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। তিনি শিশু সন্তানকে নিয়ে স্কুলে এসে ঘটনা শুনে হতভম্ব হয়ে যান। তিনি বলেন, অনেক সময় তিনি সন্তানকে দেরিতে নিতে আসেন। সন্তান অফিস কক্ষে অপেক্ষা করে। এখন তিনি শিশুকে স্কুলে রেখে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, সচিবালয় থেকে মাত্র কয়েক শ গজের দূরত্বে পল্টনের মতো জায়গায় স্কুলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

শেয়ার করুন