Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসআই নাজমুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

admin

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৪:১৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৪:১৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
এসআই নাজমুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

Manual7 Ad Code

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা:
হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার পুলিশের এক এসআই কর্তৃক নিরপরাধ মানুষদের আটক, নির্যাতন ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। নিরপরাধ মানুষদের অভিযোগ, ওয়ারেন্ট ছাড়াই ধরে নিয়ে থানায় তালাবন্ধ করে রাখা, মামলার ভয় দেখিয়ে নির্যাতন ও টাকা আদায় করে।

Manual5 Ad Code

এসআই নাজমুলের চাহিদা মতো টাকা না দিলে পুরাতন মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী করে জেলে কাটিয়েছে একাধিক মানুষকে।

তার আটক, নির্যাতন ও টাকা আদায়ের ভূক্তভোগীদের মধ্যে উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের কামরুল হাসান একজন। বিনাদোষে জেলে যাওয়া ছাতিয়াইন ইউনিয়নের আলেকপুর গ্রামের মৃত জাহের মিয়ার ছেলে কামরুল। গত ১৭ জানুয়ারি কামরুল হাসান(৩৬) কে থানায় ধরে নিয়ে যায়। কোন অভিযোগ, মামলা কিংবা ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে থানায় নিয়ে একটি রুমে দীর্ঘ ১৪ ঘন্টা তালাবন্ধ করে রাখে। সেখানে নিয়ে তার মোবাইল ফোনসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেয় এসআই নাজমুল হাসান।

তালাবন্ধ রুমে রেখে তাকে ডাকাতি, মাদকসহ বৈষম্য বিরোধীর মতো মারাত্মক মামলায় আসামী করা হবে বলে হুমকি দিতে থাকে। এসআই নাজমুলের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনে আতংকিত হয়ে পড়ে নিরপরাধ কামরুল।

Manual6 Ad Code

এক পর্যায়ে কামরুলের মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে টাকা আনতে বলতে বাধ্য করায় পুলিশ সদস্য নাজমুল। ফোন পেয়ে রাতেই কামরুলের ছোট ভাই মোশারফ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যায়। থানায় গিয়ে এস আই নাজমুলের হাতে ৫০ হাজার টাকা দেয়। ওই টাকা নিয়ে কামরুলকে মুক্তি না দিয়ে আরো ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। পুলিশের দাবীকৃত মুক্তিপন হিসেবে ৩০ হাজার টাকার জন্য বার বার চাপ দিতে থাকে নাজমুল। টাকা দেওয়ার কথা না রাখলে তিনিও কথা রাখবেন না বলে মোশারফকে হুমকি দেয়। চাহিত ৩০ হাজার টাকা না দেওয়ায় কামরুলকে গত বছরের পুরাতন মামলা নং ৩৮, তারিখ ১৩/১১/২০২৫ ইং এর তদন্তে প্রাপ্ত আসামী হিসেবে কোর্টে পাটিয়ে দেয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরন করে।

এসআই নাজমুলের এই নির্যাতন ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে গত ২০ জানুয়ারি হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করে ভূক্তভোগী মোশারফ হাসান।

অভিযোগ দায়েরর পর এসআই নাজমুল বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে বলে বিচার প্রার্থী মোশারফ জানায়। এই বিষয়ে আজ রোববার সিলেট রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি বরারব একটি দরখাস্ত করে।

Manual1 Ad Code

এক অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর এস আই নাজমুল হাসান স্থানীয় সাংবাদিক ফরাশ উদ্দিনকে কোন অভিযোগ, ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করে। থানার ভিতর একটি রুমে তালাবন্ধ করে রেখেছিল। দীর্ঘ প্রায় ১০ ঘন্টা তালাবন্ধ রুমে আটক রাখার পর মাঝ রাতে থানার তালাবন্ধ রুম থেকে ফরাশ উদ্দিনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর পর গত ১৬ নভেম্বর থানায় ঢেকে নিয়ে তেলিয়াপাড়া এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আবু আল মুর্শেদ রুবেলকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে জেলে কাটিয়েছ।

Manual8 Ad Code

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। খুব শীঘ্রই একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন