Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জ-১ : লড়াই হবে ত্রিমুখী

admin

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:০২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
হবিগঞ্জ-১ : লড়াই হবে ত্রিমুখী

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ সংসদীয় আসন দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপি, জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ফলে আসনটিতে তৈরি হয়েছে উত্তপ্ত ত্রিমুখী লড়াই।

নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৮৮ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আব্দুল মোছাব্বির এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি এই আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও একই বছরের জুন নির্বাচন, ২০০১ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী টানা তিনবার বিজয়ী হন।

২০১০ সালে দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যু হলে ২০১১ সালের উপনির্বাচনে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির এম এ মুনিম চৌধুরী, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বিজয়ী হন।

বর্তমানে আসনটি রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হলেও আগামী নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ শেখ সুজাত মিয়ার সক্রিয় প্রচারণায় সমীকরণ বদলের আভাস মিলছে। অন্য দলগুলোর তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে।

Manual8 Ad Code

প্রবাসী অধ্যুষিত নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনে এবার শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মরহুম অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। দলীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নির্বাচিত হলে এই আসন থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

Manual8 Ad Code

এ প্রসঙ্গে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে বলেই আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। বড় নেতা হওয়ার জন্য নয়, নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের একজন সেবক হয়ে কাজ করতেই রাজনীতিতে এসেছি। ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার সুযোগ দিন।

Manual8 Ad Code

এদিকে মাঠে পিছিয়ে নেই খেলাফত মজলিশের প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোট নেতা মওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী। তিনি জোটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ চায়। ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের এই প্রত্যাশার কথা শুনছি। ইনশাআল্লাহ জনগণ রিকশা মার্কায় আমাকে নির্বাচিত করলে নবীগঞ্জ-বাহুবলের উন্নয়নে কাজ করব এবং সব বরাদ্দ জনগণের সামনে প্রকাশ করব।

অপরদিকে বিএনপির দুর্দিনের কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত বহিষ্কৃত নেতা আলহাজ শেখ সুজাত মিয়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। তিনি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নিজস্ব সমর্থক বল নিয়ে ভোট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Manual6 Ad Code

শেখ সুজাত মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি। দলের সংকটকালে কর্মীদের পাশে থেকেছি। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পরাজিত করলেও দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি। ইনশাআল্লাহ এবার জনগণ ঘোড়া মার্কায় এই আসন আমাকে উপহার দেবেন।

সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আসনে কে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে কৌতূহল ও আলোচনা।

শেয়ার করুন