Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বাজার থেকে ভোটকেন্দ্র ক্যামেরার আওতায়

admin

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:৪৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে বাজার থেকে ভোটকেন্দ্র ক্যামেরার আওতায়

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের ৬টি আসনে অপেক্ষা এখন ভোটগ্রহণের। ভোট দিতে গ্রামে যাওয়ায় সিলেট নগরী এখন অনেকটা ফাঁকা। যান চলাচলও সীমিত। এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Manual2 Ad Code

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি।

Manual7 Ad Code

এদিকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সিলেটে বিতরণ করা হয় নির্বাচনী সরঞ্জাম।

Manual7 Ad Code

সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানান, নির্বাচনের জন্য সিলেট জেলায় ১১০০টি কেন্দ্র স্থাপন করেছি। আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা এই ১১শত কেন্দ্রের প্রত্যেকটি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এমনকি এই জেলার প্রত্যেকটি উপজেলার প্রধান প্রধান বাজারগুলোকেও আমরা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আমাদের এখানে প্রায় ১৯ হাজারেরও উপরে পোলিং এজেন্ট ও অফিসার এখানে আছেন। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৪শত অধিক কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে।

Manual6 Ad Code

তিনি জানান, আমাদের এখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ বিপুল সংখ্যক ফোর্স কিন্তু মোতায়েন করা হয়েছে। অতীতের কোনো নির্বাচনে এত সংখ্যক ফোর্স নির্বাচনে এনগেজ করা হয়নি। এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক ফোর্স এনগেজ করা হয়েছে। একইসাথে ড্রোন ক্যামেরা থাকছে আমাদের, যাতে কেন্দ্রগুলোকে উপর থেকে মনিটরিং করা যায়। সিলেটে ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। ৬টি আসনের জন্য ইলেকট্রনিক মনিটরিং টিম রয়েছে আমাদের জুডিশিয়াল অফিসারদের সমন্বয়ে এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা রয়েছেন। এছাড়া আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে। যদি কোনো কেন্দ্রে মনে হয় যে স্ট্রাইকিং ফোর্স বা মোবাইল টিম হচ্ছে না, তবে রিজার্ভ থেকে সেই ফোর্স সেখানে মুভ করবে। তো আমরা আশা করছি যেকোনো মূল্যে যেকোনো পরিস্থিতিতে ইনশাআল্লাহ একটা সুন্দর নির্বাচন আমরা উপহার দিতে পারবো।

সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে বসেছিলাম। তাদের আশ্বস্ত করেছি তারা যেন নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে একজন নাগরিক হিসেবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যেকোনো জায়গায় এ ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। একইসাথে হোটেলের মালিকদের সাথেও আমরা বসেছিলাম যাতে করে হোটেলে নির্বাচনের আগের রাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা বহিরাগত কেউ আসতে না পারে। আমাদের যত রকম মেজারমেন্ট নেওয়া দরকার আমরা নিয়েছি।

কালো টাকার বিষয়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানান, কালো টাকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পেসিফিক অভিযোগ আমরা পাইনি। আমাদের সার্ভিলেন্স আছে, গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। আমরা অত্যন্ত তৎপর আছি যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়। যদি কেউ এ ধরনের অপরাধ করে তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেশিশক্তির প্রভাব রোধে আমাদের ফোর্স ডেপ্লয়মেন্ট ও স্ট্র্যাটেজি সাজানো হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আনসার ১২ জন এবং জেলার সদরগুলোতে ৪ জন করে পুলিশ আছে। এছাড়া মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সেনাবাহিনী, বিজিবি সব আছে। সেখানে বডি ওন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় সবকিছু থাকছে। এটা শুধু সিলেট থেকে না, জাতীয় পর্যায় থেকে নির্বাচন কমিশনও মনিটর করতে পারবে। দুর্গম ৬টি সীমান্তবর্তী উপজেলায় সীমান্তের পরিস্থিতির কারণে সেনাবাহিনী মুভ করানো যায়নি। তবে সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাব আছে। এরপরেও যদি সিচুয়েশন ডিমান্ড করে তবে সেনাবাহিনী রেডি আছে সেখানে মুভ করার জন্য। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে ৩৫ হাজারেরও বেশি পোস্টাল ব্যালট এসেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার পরেই গণনা শুরু হবে এবং সেখানে প্রতি প্রার্থীর এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন।

শেয়ার করুন