স্টাফ রিপোর্টার:
একদিকে চলছে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, হচ্ছে গ্রেপ্তার আটক। কিন্তু তবু তাদের দমানো যাচ্ছেনা। প্রায় প্রতিদিনই চুরির ঘটনায় সিলেটের জনজীবনে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকালে সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার এলাকার আলহামলা শপিং সিটি ও শ্যামলি মার্কেটের মধ্যবর্তী স্থান থেকে শেরপুরের এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মোবাইল এবং নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এর আগের দিন আরেকজনের মোবাইলের সাথে সাথে নগদ ১০ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে চোরের দল।এভাবে প্রায় প্রতিদিন সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন মার্কেট শপিং মল ও বিপণীবিতানগুলো বা সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে চুরির ঘটনা ঘটছে। আর এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে যারা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে কেনাকাটার জন্য নগরীতে আসছেন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। কিন্তু তবু শেষ রক্ষা হচ্ছেনা। চুরির ঘটনা ঘটছেই।
অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল মনে করছেন, চুরি বা ছিনতাইয়ের যেসব ঘটনা প্রকাশ হচ্ছে বাস্তবে ঘটছে তারচেয়ে আরও অনেক বেশী।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, চৌহাট্টা এলাকায় চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের অন্তত অর্ধসহস্রাধিক সদস্য সক্রিয় রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে থাকে, আর সুযোগ বুঝে নিজের কাজ সেরে নিচ্ছে। তাদের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে তেমন ধারনা না থাকলেও আনুমানিক সংখ্যাটা অর্ধসহস্র ছাড়িয়ে যাবে।তবে সিলেটের পুলিশ প্রশাসনও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে। শনিবার সারাদিন ও রবিবার সকাল পর্যন্ত ৩২ ঘন্টায় নগীরর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১৪০ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চোর এবং ছিনতাইকারীও আছে।
এদিকে মহানগর পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ পিপিএম জানিয়েছেন, চুরি ও ছিনতাইকারীদের ঠেকাতে তারা কাজ করছেন। নগরীতে পুলিশী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। অন্তত ৬০টি মোবাইল টিম কাজ করছে। সক্রিয় আছে গোয়েন্দারাও।
তিনি সিলেটবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন, অন্তত আগামী ২ মাসের মধ্যে সিলেটে কোনো চোর বা ছিনতাইকারী থাকবে না। সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।
তবে এতকিছুর পরেও নাগরিক সচেতনতাও জরুরী। সবাইকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাংখিত পরিস্থিতিতে পুলিশের সহযোগীতা নিতে হবে।