স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট মহানগরী এলাকায় এতোটাই অপরাধীদের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছিলো যেন সামাল দিতে পারছিলো না পুলিশ। দিনে প্রকাশ্যে ছিনতাই, অপহরণ, চোরাকারবারিদের তৎপরতা আর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতায় সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছিল। অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিলো মাঠ পর্যায়ে পুলিশের তৎপরতার ঘাটতি। তবে এবার মহানগরীতে অপরাধ দমনে ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছে পুলিশ। জিরো টলারেন্স নীতিতে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে চলছে টানা সাঁড়াশি অভিযান।গত কয়েক সপ্তাহ থেকে সিলেটে বেড়েছে পুলিশের এই বিশেষ তৎপরতা। সেই তৎপরতায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ ও মাঠ পর্যায়ের একাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি চোরাচালান পণ্য ও মাদক ব্যবসায়ীদের পাকড়াও করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক অপরাধী গ্রেফতার হলেও সিলেটের আলোচিত দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে ধরতে পারেনি। তবে পুলিশ বলছে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা গেলেও তারা বেশ কৌশলী। তাদেরকে ধরার জন্য জেলা পুলিশের কয়েকটি থানা ও একাধিক পুলিশের টিম মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।পুলিশ সূত্র জানায়, অপরাধীদের ধরার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য সিলেট মহানগর পুলিশের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে পেট্রোল পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের টিমের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে। সেই সাথে গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের অভিযান জোরদার হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের পুলিশের পাশাপাশি তদারকিতে নেমেছেন মহানগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। পুলিশের এই তৎপরতা এতোদিন নগরবাসী না দেখলেও এবার স্বল্প সময়েই জনমনে ফিরেছে স্বস্তি।সূত্র জানায়, রমজানের শুরুতেই অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে মহানগরীতে। প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকা সিলেট মহানগরীতে অপরাধীরা বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নেমে পড়ে অপরাধ জগতে। সিলেট মহানগর পুলিশের বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী, পরোয়ানাভুক্ত আসামী, মাদককারবারী, মাদকসেবী, সন্দেহজনক ও চোরাচালানকারীসহ ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক অপরাধীদের পাকড়াও করেছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সমন্বয়ে পরিচালিত পৃথক ও বিশেষ এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ গত রবিবার (৮ মার্চ) কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর তাঁতিপাড়া এলাকার নাজমা নিবাস নামের বাসার দ্বিতীয় তলা থেকেঅ অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। অভিযানে একজন প্রবাসীসহ দুইজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় আসামিদের হেফাজতে থাকা ভুক্তভোগী প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার বাসিন্দা। অপরহরণকারী চক্রের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী সুহেল আহমদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া নগরীর সাদাটিকর এলাকা থেকে পুলিশ ইয়াবা কারবারি শাকিলকে (৩০) গ্রেফতার করেছে। এসময় পুলিশ তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। রবিবার (২ মার্চ) রাতে শাহপরাণ থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত শাকিল মোগলাবাজার থানাধীন আলমপুর এলাকার শাহ আলমের ছেলে।
রবিবার (৮ মার্চ) রাতে জালালাবাদ থানা পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে ভারতীয় জিরাসহ রাশেদ আলী নামের একজনকে গ্রেফতার করে। এসময় পুলিশ ট্রাক তল্লাশি করে ৯৫ বস্তা ভারতীয় অবৈধ জিরা জব্দ করে এবং ট্রাক আটক করে। জব্দকৃত জিরার বাজার মূল্য ১৪ লাখ ১২ হাজার টাকা।
অপরদিকে সিলেটে নগরীতে এক নারী কর কর্মকর্তা ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক নারী ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নগরীর সাগরদিঘির পার এলাকায় তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ছিনতাইয়ের ভিডিওটি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। ছিনতাইয়ের শিকার ওই নারী শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারী ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একজনের হাতে লম্বা দা ছিল। সেই দা দিয়ে আঘাত ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। টানাটানির একপর্যায়ে তারা মোবাইল ও ব্যাগ নিতে ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে যায়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে নগরীর হাউজিং এস্টেট আবাসিক এলাকায় এক নারী কর কর্মকর্তা ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তিনটি মোটরসাইকেলে ৬ জন ছিনতাইকারী অংশ নিলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনার পর এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাহ মোবাশ্বিরকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান সবসময় অব্যাহত আছে। কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। মাঠ পর্যায়ের পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতা আর বিশেষ চেকপোস্ট চলমান রয়েছে।