Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক আলোচনা ইসলামাবাদে শুরুর অপেক্ষা

admin

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:২৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক আলোচনা ইসলামাবাদে শুরুর অপেক্ষা

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual1 Ad Code

যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার প্রতিনিধি দল। তাদের বহনকারী বিমানটি অবতরণের পর রানওয়েতে স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং দেশটির ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

অন্যদিকে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের প্রতিনিধি দলও ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাতে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছান। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

Manual8 Ad Code

আলোচনা শুরু হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে  
আজ শনিবার জেডি ভ্যান্সের ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে তার সঙ্গে থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, শনিবার সকালে আলোচনার প্রথম দফা শুরু হবে।

ইরান চালাকি করলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাবে না যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স
ভ্যান্স ও তার আলোচক দল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আলোচনার অপেক্ষায় আছেন। আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী। যদি ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় প্রস্তুত থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, ইরান যদি চালাকি করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল তা গ্রহণ করবে না এবং আলোচনায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।

সূত্র জানায়, ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকবেন উইটকফ ও কুশনার। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসন ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

স্টিভ উইটকফ বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এর আগে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

Manual1 Ad Code

ইসলামাবাদে পৌঁছানো ইরানি প্রতিনিধি দলের বিমানের নাম ‘মিনাব ১৬৮’
এদিকে ইরানি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে পৌঁছানো ইরানি প্রতিনিধি দলের বিমানটির নাম সাম্প্রতিক হামলার একটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে রাখা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘মিনাব ১৬৮’ বলতে বোঝানো হচ্ছে সেই ১৬৮ জন ইরানি নাগরিকদের, যারা ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছিলেন। যাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল। ওই হামলায় মিনাব শহরের শিশুদের স্কুল ‘শাজরায়ে তাইয়েবা’ ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানানো হয়।

Manual3 Ad Code

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অনিচ্ছাকৃতভাবে ওই হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগেই বলেছেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। পাকিস্তানে অবতরণের পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ছবি শেয়ার করেন।

ছবিতে বিমানের আসনে চারটি শিশুর ছবি রাখতে দেখা যায়, যেগুলোর পাশে স্কুল ব্যাগ ও ফুল রাখা ছিল। গালিবাফ পোস্টে লিখেন, ‘এই ফ্লাইটে তারা আমার সহযাত্রী।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির সামরিক ও বেসামরিক বহু স্থাপনা। পাঁচ সপ্তাহে ইরানে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

পাল্টা জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যার মেয়াদ শেষ হবে ২২ এপ্রিল।

শেয়ার করুন