Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম্পত্য কলহ: শিশু কন্যাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা মায়ের

admin

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ০৯:১৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ | ০৯:১৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
দাম্পত্য কলহ: শিশু কন্যাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা মায়ের

Manual6 Ad Code

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :
পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দিনদুপুরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে অপহরণ স্টাইলে স্বামীর বাড়ি থেকে শিশু সন্তানকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন মা ও খালাসহ অন্যান্যরা। রাস্তায় শিশুটির কান্নার শব্দে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারের চৌমুহনীতে মোটরসাইকেল থেকে নেহাকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান স্থানীয়রা।

এ ঘটনার পর শিশুর মা, খালাসহ অন্যান্যরা পুলিশ ফাঁড়ির কক্ষে হামলা ও পুলিশ সদস্যের গায়েও হাত তুলেন। পরে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অভিযুক্তদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।

Manual4 Ad Code

শুক্রবার (৮ মে) দুপুর পৌনে ১টায় কুলাউড়া উপজেলার ভূঁইগাও গ্রামের কবির আহমদ চৌধুরীর বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে।

Manual6 Ad Code

স্থানীয়রা জানান, ভুঁইগাঁও এলাকায় কবির আহমেদ চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয় শিশুর মা নাজিরা আক্তার রুজি ও খালা নাদিরা আক্তারসহ আরও কয়েকজন পুরুষ।

বাড়িতে মহিলাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দ্রুত সময়ে শিশু নেহা চৌধুরীকে (১০) মোটরসাইকেলে তুলে নেন। এসময় শিশুর বড় চাচি সুমি আক্তার ও চাচা আকিক আহমেদ তাদের বাঁধা দিলে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন।

তবে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে তাদের গতিরোধ করে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান।

তাৎক্ষণিক পুলিশের উপস্থিতিতেই অভিযুক্ত নাজিরা আক্তার ও তার সঙ্গীরা ক্ষোভে রণমূর্তি ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এ ঘটনার ভিডিও।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, পুলিশ ফাঁড়ির ভিতরে অভিযুক্ত নাজিরা আক্তার ও তার সঙ্গীরা কর্তব্যরত পুলিশের গায়ে হাত তোলেন এবং টানাহেঁচড়া করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তারা ছিলেন বেপরোয়া।

অভিযোগ উঠেছে, শমশেরনগর ফাঁড়ি পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিনের বাড়ি এবং হামলাকারীদের একই জেলায় (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) হওয়ায় এবং একজন সাবেক পুলিশ সদস্যের আত্মীয় পরিচয় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মুছলেকায় ছেড়ে দেন।

Manual2 Ad Code

শিশুটির বাবা কবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০০৭ সালে নাজিরা আক্তার রুজির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। দুটি সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই নাজিরা তার বাবার বাড়িতে থাকছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমার মেয়ে নেহাকে নিয়ে আসি। এরপর নেহা আর তার মায়ের কাছে ফিরতে চায়নি। এ ঘটনায় নাজিরা আমার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার আদালত ও কুলাউড়া থানায় পৃথক দুটি অপহরণ মামলা করেন। তবে উভয় ক্ষেত্রেই আদালত নেহার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে আমার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পরে সন্ত্রাসী স্টাইলে পুলিশের ওপর হামলা করল, অথচ ইনচার্জ তাদের কিছুই করলেন না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে নাজিরা আক্তার রুজি বলেন, আমার মেয়েকে আমি নিতে এসেছি। তারা আমার মেয়েকে যুক্তি পরামর্শ দিয়ে তাদের কাছে আটকে রেখেছে।

Manual7 Ad Code

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে দিয়েছি। এছাড়া তেমন কোন সমস্যা হয়নি।

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, শিশুর মায়ের সাথে কিছু লোকজন ছিল, তাদের সাথে পুলিশের উচ্চ বাকবিতন্ডা হইচই হয়, এই পর্যন্তই। গায়ে হাত তুলে নাই, আমি একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।

শেয়ার করুন