Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে খুলছে নাজমা হত্যা কান্ডের জট

admin

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ | ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
হবিগঞ্জে খুলছে নাজমা হত্যা কান্ডের জট

Manual1 Ad Code

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা:
হবিগঞ্জের বাহুবলে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নাজমা আক্তার হত্যাকান্ডের জট খুলতে শুরু করেছে। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, নিহতের সতীনের ভাই আব্দুল গনি প্রতিশোধ ও পারিবারিক স্বার্থে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন বলে তারা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন।

Manual2 Ad Code

পিবিআই সূত্র জানায়, আব্দুল গনির সঙ্গে নিহতের দেবর তোরাব আলী ও তার আত্মীয় সেলিম মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং মামলা চলছিল। মারামারির একটি মামলায় জেল খাটার প্রতিশোধ নিতে তিনি প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। পাশাপাশি নিজের বোনকে সতীনের সংসার থেকে ‘নিরাপদ’ করাও ছিল উদ্দেশ্য তার। এ ঘটনায় শুরু থেকেই মামলার নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতেই।

Manual6 Ad Code

জানা গেছে, গত বছরের ২০ অক্টোবর উপজেলার কাজিহাটা গ্রামের জসিম মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাজমা আক্তারের লাশ তার বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের মেয়ে নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে তার চাচা তোরাব আলীসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

তবে তদন্তে দেখা যায়, মামলার আসামি নির্ধারণসহ সব কিছু পরিচালনা করছিলেন আব্দুল গনি।
পিবিআইয়ের তদন্তকারি কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রাজিব কুমার দাশ জানান, মামলার ৯ নম্বর আসামি আব্দুন নূরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেফতারের পর মামলার মোড় ঘুরে যায়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নূর জানান, তিনি হত্যাকান্ডের ঘটনা দেখে ফেলেছিলেন বলেই তাকে আসামি করা হয়। পরে অধিকতর তদন্তে আব্দুল গনিকে গ্রেফতার করা হয়। কিছুদিন কারাগারে থাকার পর তার পক্ষ নেন মামলার বাদী নার্গিস আক্তার। তিনি আদালত থেকে জামিন করান সৎ মামা আব্দুল গনিকে।

তিনি বলেন, তদন্তে আরও জানা যায় নিহতের মেয়ে নার্গিসের সঙ্গে আব্দুল গনির ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে নার্গিস তার শ্বশুর আব্দুল গনির পক্ষ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

নিহতের ভাই মনির মিয়া দাবি করেন, তার বোনকে হত্যা করে নিরপরাধ লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এর সঠিক বিচার চান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নানও বলেন, এলাকার নিরীহ মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জনমনে ধারণা রয়েছে।

Manual8 Ad Code

পিবিআই জানায়, নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীর ও কাপড় ভেজা পাওয়া যায় এবং গলায় কাটা দাগ ছিল। হত্যার পর লাশ গোসল করানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে। যদিও মামলাটি নিয়ে বর্তমানে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Manual6 Ad Code

শেয়ার করুন