Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“গনমানুষের নেতা ছিলেন এম.পি শরফ উদ্দিন খসরু”

admin

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
“গনমানুষের নেতা ছিলেন এম.পি শরফ উদ্দিন খসরু”

Manual8 Ad Code

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
১৯৯০ সাল। গন অভ্যুথানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন হয়। জনাব, সাহাব উদ্দিন আহমদ, প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে সরকার গঠিত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিতর্কহীন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। যদিও প্রথাগত বা মধ্যাগত ত্রুটি ছিল শেখ হাসিনার। পরাজিত হলেই বলতেন সূক্ষ্ণ বা স্থুল কারচুপি হয়েছে। ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি স্বচ্ছ এবং স্বতঃস্ফুর্ত নির্বাচনে জনাব, শরফ উদ্দিন খছরু ৩৭ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাহাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন জনাব, নুরুল ইসলাম নাহিদ। তাহাঁর প্রাপ্ত ভোট ৩৩ হাজার। পরাজিত হলে ও উভয়ের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ১৯৯৪ সালে জাতীয় পাটি ত্যাগ করে উন্নয়নের স্বার্থে জনাব এম. সাইফুর রহমান এর ধারাবাহিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে তাহাঁর মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদান করে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সাধারণ মানুষের অভুতপূর্ব উন্নয়ন সাধান করেন। পরবর্তিতে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রিয়ারীর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন।

Manual7 Ad Code

 

  • জনাব, শরফ উদ্দিন খছরু ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তাহাঁর সাথে প্রায় ৩টি বৎসর অত্যন্ত ঘনিষ্টভাব সম্পৃক্ত ছিলাম। বিভিন্ন অফিস আদালতে যাওয়ার সময় বলেতেন আমান আস। অফিস আদালত চিনে রাখা ভাল। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। আমার সাথে গেলে বিনা বাধায় যেতে পারবায়। কিন্তু কালের বিবর্তনে কি কোন এম.পি বা মন্ত্রী এ ভাবে কোন কর্মীকে সাথে নিয়ে গিয়েছেন? কখন ও না। রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের জন্য উদ্বোদনের কথা বলিলে তিনি বলতেন, এসব নাম ফলক দিয়ে কি করিব? এসব উন্নয়ন তো জনগনের টাকায় হচ্ছে? সারকার বরাদ্ধ দিচ্ছে, আমি শুধু মাধ্যম। আমাকে এত সম্মান দিল জনগন, যাহার মাধ্যমে আমি আইন সভায় যোগদানের সুযোগ পেয়েছি। তাহাঁদের আমানতের খেয়ানত হয় এমন কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব নহে। সম্মানী ভাতা যে টুকু পেতেন সেই টাকা কখন ও ছয় নয় না করে বাসে চলাফেরা করতেন এবং জনস্বার্থে সেই টাকা খরচ করিতেন। যে ইউনিয়নে যাবেন সেই ইউনিয়নের প্রতিনিধিকে জানিয়ে রাখতেন এনালগ ফোন এর মাধ্যমে এবং বলতেন ২/৩ দিন বিভিন্ন নেতা কর্মীদের বাড়ীতে থেকে তাহাঁদের সমস্যার কথা শুনবেন এবং সমাধানের চেষ্টা করিতেন।

 

Manual4 Ad Code

  • জনাব, শরফ উদ্দিন খছরু তিনির স্ত্রী ও ছিলেন তাহাঁর আদলে গড়ে উঠা। ঘরে কোন গৃহকর্মী ছিল না। বাসায় ২/৪ দিন খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। খাবারের তালিকায় ছিল আলু, ভর্তা, ডাল, করলা বা ছোট মাছ। বর্তমান যুগে কি এম.পিদের এভাবে চলাফেরা দেখার জন্য বাইনো কুলার দিয়ে খোজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ জনাব, শরফ উদ্দিন খছরু সাহেব বড় হয়েছেন রাজনৈতিক সচেতন ও শিক্ষিত পরিবারে। তাহাঁর পিতা ছিলেন মরহুম আছদ্দর আলী। ১৯৫৪ এবং ১৯৭০ এর জাতীয় নির্বাচনে ন্যাপের হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তাহাঁর বোন সিলেট অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

 

  • জনাব, শরফ উদ্দিন খছরু সিলেট এম.সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সহিত এইচ.এসসি পাশ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু পরিবারিক সমস্যার কারনে সেখানে ভর্তি না হয়ে সিলেট এম.সি কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার আদায়ে ছিলেন সোচ্ছার। ১৯৫৮ সালে সিলেট এম.সি কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করে ভিপি পদে বিজয়ী হন। জীবদ্দশায় তাহাঁর নিজস্ব বাড়ি, গাড়ী কিছুই ছিল না। ভাড়া বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাহাঁর সততা ও আদর্শের কারনে আজীবন সিলেট-০৬ আসন এর জনগনের মুখ উজ্জল করে রেখে গেছেন। উল্লেখ করা প্রয়োজন, তাহাঁর গ্রামের বাড়ি গোলাপগঞ্জ থানার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাগ গ্রামে। তিনি কখন ও বিশ্বাস করতেন না, অফিস আদালত বা নেতা কর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে % ব্যবসার কথা। বলতেন % ব্যবসা করার চেয়ে সুইপার এর কাজ অনেক ভাল। বিশ্বাস করতেন উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন এর চেয়ে উদ্বোধন এর ব্যয় জনস্বার্থে ব্যবহার করা উত্তম। কিন্তু হালের রাজনীতিবিদরা সেটা কি মানেন? না, কিছুতেই না। অতিথ আমলে দেখা গেছে রাস্তা, কালবার্ট, ড্রেন, দেয়াল, টয়লেট যাহা কিছুই হউক না কেন জনাব, এম.পি সাহেব কর্তৃক উদ্বোধন চাই। রিক্রুটেড এজেন্ট কর্তৃক উদ্বোধনের তারিখ হল, প্রধান অতিথি আসলেন, লম্বা লম্বা বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়ে গেলেন, জন মানবহীন মিটিং এ। শুধু প্রধান অতিথি ও তাহাঁর রিক্রুটেড এজেন্ট ব্যতিত সমাবেশ স্থলে আর কেহ নেই। লজ্জা পাওয়ার কথা ছিল প্রধান অথিতির। কিন্তু লজ্জা থাকলে তো…….?

 

Manual7 Ad Code

  • বাংলাদেশ সরকারের প্রধান, আপোষহীন ও গনন্ত্রের মাতা সুটকেসহীন রাষ্ট নায়ক গনমানুষের দল বিএনপি এর প্রতিষ্টাতা এর সুযোগ্য উত্তারাধীকার জনাব, তারেক রহমান জনবান্ধব রাজনীতি এর সংস্কৃতি চালু করার শত চেষ্টা করিতেছেন কিন্তু শয়তান, দুর্নিতীবাজ, অসাধু রাজনীতিবিধ, % ব্যবসায়ীরা কিন্তু সরকার প্রধানের ভাষা এবং মনের অনুভুতি না বুঝে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে দুর্নিতির বরপুত্র হওয়ার চেষ্টা করিতেছেন। যত দুষ নন্দ ঘোষ। চুরি চামারি করিবেন হাতে গোনা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে ২-৩%। অথচ দেশ দুর্নিতিতে চ্যাম্পিয়ন হলে গোটা ১৮ কোটি তথা সরকার প্রধান জনাব, তারেক রহমানকেই সম্পূর্ন দায় নিতে হবে। সরকার প্রধানের নিকট আমার প্রস্তাব থাকবে, জনাব খছরু সাহেবের মতো লোকদের নিজস্ব পছন্দের দলীয় নেতা কর্মীদেরদ্বারা যাচাই বাচাই করেন। হাল আমলের এম.পি মন্ত্রীদের লাগাম টেনে ধরার জন্য নিজস্ব বাচাইকৃত ত্যাগীনেতাদের দিয়ে তাহাঁদের গতিবিধি বা গোয়েন্দা রিপোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করুণ।

 

Manual2 Ad Code

  • যদি মুসলমান হন তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায় এম.পি মন্ত্রীদের ডানে এবং বামে ২ জন ফেরেশতা আছেন। যদি তাহারা গোপনে দুর্নিতি করেন তাহাঁদের যেনে রাখা ভাল যথাসময়ে কিন্তু এমনিতেই সব দুর্নিতির খবর প্রকাশ করে দেবেন এসব ফেরেশতা। তবে দৃশ্যত নহে। বর্তমান সময়ের এম.পি মন্ত্রীদের বলব জনাব, তারেক রহমান এবং সিলেট-০৬ আসনের এম.পি শরফ উদ্দিন খছরু ছোট খাট উন্নয়ন উদ্বোধনকে পছন্দ করেন নাই। আপনাদের দালালদের কথায় উদ্বোধনী কাজে ব্যস্ত না থেকে জটিল এবং কঠিন সমস্যাগুলি চিহ্নিত করুণ। জরুরী ভিত্তিতে এ সবের সমাধানের চেষ্টা করুণ। তাহলে পরবর্তী নির্বাচন সহজ হবে। স্থানীয় উন্নয়ন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা দলের প্রচার হওয়াটাই উত্তম।

লেখক, সভাপতি- সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বিয়ানীবাজার, সিলেট। মোবাইল নং ০১৮ ১৯ ১৭ ৬২ ১৭

 

শেয়ার করুন